জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার সাহিত্য, সংগীত ও চিন্তার উত্তরাধিকার। এ উপলক্ষে নজরুলের জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে কবির পরিবার। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নজরুলের কবিতা ও গান বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সোমবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী। তিনি বলেন, জাতীয় কবির সাহিত্য ও সংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে হলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। নজরুলের রচনাবলী বিভিন্ন ভাষায়, বিশেষ করে ইংরেজিতে অনুবাদ করে বিশ্বপরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সকালে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানান তার পরিবার, ভক্ত-অনুরাগী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতারা। ফুলেল শ্রদ্ধা ও নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয় বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী এই স্রষ্টাকে।
অনেকেই মনে করছেন, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে বার্তা নজরুল তার লেখায় তুলে ধরেছেন, বর্তমান সমাজে তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তাই সমাজে বৈষম্য ও বিভাজন দূর করতে নজরুলচর্চা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে বিভিন্ন আয়োজনে।
বছরজুড়ে নজরুল বর্ষ পালন
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারিভাবে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণাও এসেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি ছিলেন প্রেম, সাম্য, মানবিকতা ও স্বাধীনতার কণ্ঠস্বর। তাই তাকে ঘিরে আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার আদর্শকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















