পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষায় নতুন নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। ‘ওয়াপডা সিকিউরিটি ফোর্স’ নামে এই বিশেষ বাহিনী মূলত বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, বাঁধ, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেখানে কর্মরত দেশি-বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিশেষ করে চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের সুরক্ষাকে এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ইতোমধ্যে ‘ওয়াপডা সিকিউরিটি ফোর্স অ্যাক্ট ২০২৬’ পাঠানো হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পানি অবকাঠামো সুরক্ষার জন্যই এই বাহিনী গঠন করা হচ্ছে।
দাসু প্রকল্পে হামলার পর নতুন সিদ্ধান্ত
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ২০২১ ও ২০২৪ সালে দুটি বড় হামলার পর নিরাপত্তা কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। ওই হামলাগুলোতে কয়েকজন চীনা ও পাকিস্তানি কর্মী নিহত হন। এর ফলে কয়েক মাসের জন্য প্রকল্পের কাজও বন্ধ হয়ে যায়। পরে উচ্চপর্যায়ের সরকারি উদ্যোগ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের পর আবার কাজ শুরু হয়। তবে এতে ব্যয় ও সময়—দুইই বেড়ে যায়।

এর আগে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি প্রকল্পগুলোর জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা বিভাগ মোতায়েন ছিল। কিন্তু ওয়াপডার অনেক প্রকল্প সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় ছিল না। তাই আলাদা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রয়োজন দেখা দেয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কী দায়িত্ব পালন করবে নতুন বাহিনী
নতুন বাহিনীর প্রধান হিসেবে একজন মহাপরিচালক থাকবেন, যিনি সম্ভবত সশস্ত্র বাহিনী থেকে নিয়োগ পাবেন। বাহিনীর নিজস্ব পোশাক, প্রতীক ও প্রশাসনিক কাঠামো থাকবে। দেশের বিভিন্ন ঘোষিত এলাকায় তারা দায়িত্ব পালন করবে।
এই বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে বাঁধ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, যন্ত্রপাতি, অফিস, কর্মীদের আবাসন ও চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এছাড়া পানি উন্নয়ন প্রকল্পের এলাকায় অনুপ্রবেশ, দখল বা নাশকতা ঠেকাতেও তারা কাজ করবে। স্থানীয় পুলিশ, রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কনস্ট্যাবুলারি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও আইনি সুরক্ষা
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, বাহিনীর তদারকি থাকবে ফেডারেল সরকারের হাতে, তবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ করবে ওয়াপডা। নিরাপত্তা চাহিদা অনুযায়ী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষাও রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় ‘সদিচ্ছা থেকে’ নেওয়া পদক্ষেপের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা করা যাবে না বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের ওপর শিল্প সম্পর্ক আইন ও কিছু শ্রম আইন প্রযোজ্য হবে না।
চীনা বিনিয়োগ সুরক্ষার বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু নিরাপত্তা জোরদারের অংশ নয়, বরং পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগ ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় বেইজিং উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। নতুন এই বাহিনী সেই উদ্বেগ কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















