আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চল, সিলেট ও চট্টগ্রামের সংযোগ সড়কগুলোতে বাড়ছে যানজটের আশঙ্কা। বিশেষ করে গাজীপুরের বিভিন্ন অংশে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভোগান্তি তীব্র হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অবৈধ পার্কিং, ভাসমান বাজার, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগর ও জেলার অন্তত আটটি স্থানে যানজটের ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ছয়টি এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুটি পয়েন্টকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহনের চাপ ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
যানজটের মূল কারণ কী
মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, কাঁচাবাজার, বাস কাউন্টার, যত্রতত্র গাড়ি থামানো এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচলকে যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়দের ভাষ্যেও একই চিত্র উঠে এসেছে।
চালকদের অভিযোগ, ঈদের সময় বাড়তি যাত্রীচাপ সামলাতে গিয়ে অনেক চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দীর্ঘ জট তৈরি হয়।
তিন মহাসড়কে বাড়তি উদ্বেগ
হাইওয়ে পুলিশ এবার সারা দেশে ৯৪টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। উত্তরের পথে ২৫টি, চট্টগ্রামমুখী পথে ২৫টি এবং সিলেটমুখী পথে ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা উড়ালসড়কের পশ্চিম অংশকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে। চার লেন প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ শেষ হলেও কিছু আন্ডারপাস ও উড়ালসড়কের কাজ বাকি থাকায় সেসব এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে থাকা পোশাক কারখানা ও বাজারকেন্দ্রিক চাপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে আগের দুই ঈদের মতো এবারও ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। সড়কের খানাখন্দ ও চলমান উন্নয়নকাজ এ আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা এবং কুমিল্লার কয়েকটি বাজার এলাকাকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে হাইওয়ে পুলিশ।

চন্দ্রা থেকে নবীনগর, দীর্ঘ ভোগান্তির আশঙ্কা
চন্দ্রা উড়ালসড়ক চালুর পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও নিচের সড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। নবীনগর থেকে চন্দ্রা হয়ে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এছাড়া মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন বাস কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানোয় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
জিরানী বাসস্ট্যান্ড এলাকাও এবার বড় ভোগান্তির কারণ হতে পারে। রাজধানী থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই কয়েক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ পথেও শঙ্কা
টঙ্গীর স্টেশন রোড, কলেজ গেট, বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, ভবানীপুর, বাঘের বাজার, মাস্টারবাড়ী, সিডস্টোর ও ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকাতেও তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। ভাসমান বাজার এবং অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে এখানে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি
যানজট মোকাবিলায় জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গাজীপুরে জেলা পুলিশের ৫৫০ সদস্য, মহানগর পুলিশের ৫০০ সদস্য এবং হাইওয়ে পুলিশের ৮২৭ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পাশাপাশি পোশাক কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে একদিনে অতিরিক্ত শ্রমিকচাপ কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারী বৃষ্টি বা আকস্মিক পরিস্থিতি না হলে এবার ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক রাখার চেষ্টা থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















