সিলেট বিভাগে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় বিভাগজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত এই হিসাব নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃত শিশুদের মধ্যে একজন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার, একজন সিলেট সদর এলাকার এবং আরেকজন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৪ মাস, ৮ মাস এবং ৪ মাস।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। অন্য দুই শিশুর মৃত্যু হয় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম অথবা হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৫৮ জন রোগী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের মধ্যেই জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি এবং শ্বাসকষ্টসহ হাম-জাতীয় উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তবে সব মৃত্যুই পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম নয়।

নিশ্চিত হাম শনাক্ত আরও ৫ জন
একই সময়ে বিভাগে পরীক্ষাগারে আরও পাঁচ শিশুর শরীরে হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৫ মৃত্যুর মধ্যে চারটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মৃত্যুগুলো হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যবেক্ষণ
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজরদারি জোরদার করেছে বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















