০২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
রুপির স্থিতিশীলতায় ‘যা প্রয়োজন তাই করবে’ আরবিআই, বললেন গভর্নর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ইঙ্গিত, ‘চুক্তি না হলে অন্য পথ’ হুঁশিয়ারি রুবিওর ভারতে তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র, চাহিদা ছাড়াল ২৭০ গিগাওয়াট জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, র‍্যাব ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় আটক ২০–২৫ যুবসমাজের কণ্ঠরোধ করে ভবিষ্যৎ রক্ষা করা যায় না ট্রাম্প-ভীতির আমেরিকা এবং এক নারীর অস্বস্তিকর সাহস চিকিৎসাব্যবস্থা যখন শোনে না, রোগীরা তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যায় তারকা হোটেলের বিলাসবহুল স্যুটে এনসিপির সাক্ষাৎকার, ক্ষোভ তৃণমূল নেতাকর্মীদের হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, দুই মাসে ৫২৮ শিশুর মৃত্যু সিলেটে হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫

চীনের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তান, আফগান ভূখণ্ড নিয়ে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের

আফগানিস্তানের মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আরও “দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য” পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান ও চীন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সপ্তম কৌশলগত সংলাপ শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় দুই দেশ এ আহ্বান জানায়।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের চীন সফরের পর প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আফগান ভূখণ্ড যেন কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে ভেঙে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় জোর

Pakistan, China call for action against Afghanistan-based terror groups: statement - TRT World

যৌথ বিবৃতিতে চীন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানে চীনা নাগরিক, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগের প্রশংসা করে। বেইজিং জানায়, সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছে।

দুই দেশই সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে একমত হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি প্রকল্প নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, পাকিস্তান ও চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে। দুই দেশই এই সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

চীন পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের উন্নয়ন মডেল ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রশংসা করে।

এ সময় পাকিস্তান আবারও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে পাকিস্তান জানায়, তারা ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে।

Pakistan, China agree to build upgraded version 2.0 of CPEC - Pakistan Observer

সিপিইসি ২.০ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

দুই দেশ সিপিইসির “আপগ্রেডেড ভার্সন ২.০” বাস্তবায়নের ব্যাপারেও একমত হয়েছে। শিল্প, কৃষি ও খনিজ খাতকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গওয়াদর বন্দর উন্নয়ন, কারাকোরাম মহাসড়কের কার্যক্রম সচল রাখা এবং টেকসই উন্নয়ন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কারিগরি শিক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মহাকাশ সহযোগিতা ও আঞ্চলিক ইস্যু

যৌথ বিবৃতিতে মহাকাশ খাতে দুই দেশের বাড়তে থাকা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানি নভোচারীদের চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছে দুই দেশ।

কাশ্মীর ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে। চীন পুনরায় বলেছে, জাতিসংঘের প্রস্তাব ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

এছাড়া গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান ও চীন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী বছর ইসলামাবাদে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের পরবর্তী কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

Gwadar Port: A hallmark of peaceful development of CPEC projects - Global Times

জনপ্রিয় সংবাদ

রুপির স্থিতিশীলতায় ‘যা প্রয়োজন তাই করবে’ আরবিআই, বললেন গভর্নর

চীনের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তান, আফগান ভূখণ্ড নিয়ে কড়া বার্তা বেইজিংয়ের

০১:০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

আফগানিস্তানের মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আরও “দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য” পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান ও চীন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সপ্তম কৌশলগত সংলাপ শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় দুই দেশ এ আহ্বান জানায়।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের চীন সফরের পর প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আফগান ভূখণ্ড যেন কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে থাকা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে ভেঙে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় জোর

Pakistan, China call for action against Afghanistan-based terror groups: statement - TRT World

যৌথ বিবৃতিতে চীন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানে চীনা নাগরিক, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগের প্রশংসা করে। বেইজিং জানায়, সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছে।

দুই দেশই সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে একমত হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি প্রকল্প নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, পাকিস্তান ও চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে। দুই দেশই এই সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

চীন পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের উন্নয়ন মডেল ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রশংসা করে।

এ সময় পাকিস্তান আবারও ‘এক চীন নীতি’র প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে পাকিস্তান জানায়, তারা ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে।

Pakistan, China agree to build upgraded version 2.0 of CPEC - Pakistan Observer

সিপিইসি ২.০ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

দুই দেশ সিপিইসির “আপগ্রেডেড ভার্সন ২.০” বাস্তবায়নের ব্যাপারেও একমত হয়েছে। শিল্প, কৃষি ও খনিজ খাতকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গওয়াদর বন্দর উন্নয়ন, কারাকোরাম মহাসড়কের কার্যক্রম সচল রাখা এবং টেকসই উন্নয়ন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কারিগরি শিক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মহাকাশ সহযোগিতা ও আঞ্চলিক ইস্যু

যৌথ বিবৃতিতে মহাকাশ খাতে দুই দেশের বাড়তে থাকা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানি নভোচারীদের চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছে দুই দেশ।

কাশ্মীর ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে। চীন পুনরায় বলেছে, জাতিসংঘের প্রস্তাব ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

এছাড়া গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান ও চীন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী বছর ইসলামাবাদে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের পরবর্তী কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

Gwadar Port: A hallmark of peaceful development of CPEC projects - Global Times