নতুন তুলা জিনিং মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি শুরু করেছে পাকিস্তান। দেশটির ইতিহাসে এটিকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে তুলা ও ফুটি সংকট তীব্র হওয়ায় দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, ফলে টেক্সটাইল মিলগুলো বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬-২৭ মৌসুমের মোট বিক্রি হওয়া ২ লাখ ১৬ হাজার বেলের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ১০০ বেল পাকিস্তানি টেক্সটাইল মিলগুলো কিনেছে। অর্থাৎ, মোট বিক্রির প্রায় ৯৫ শতাংশই গেছে পাকিস্তানের ক্রেতাদের কাছে। একই সঙ্গে ব্রাজিল থেকেও বড় পরিসরে তুলা আমদানি করা হচ্ছে।
বাড়ছে আমদানি ব্যয়
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পাকিস্তানকে তুলা ও ভোজ্যতেল আমদানিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হতে পারে। এই দুই খাতে এটি হতে পারে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ আমদানি বিল।
একদিকে সরকার বারবার তুলা উৎপাদন পুনরুজ্জীবনের কথা বলছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় তুলা উৎপাদন অঞ্চল রহিম ইয়ার খানে নতুন চিনিকল অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তুলা উৎপাদন এলাকায় চিনিকলের বিস্তার কৃষকদের আখ চাষে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে, যা তুলা উৎপাদন আরও কমিয়ে দিচ্ছে।
নীতিগত সংকট ও শিল্পখাতের উদ্বেগ
খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তুলাবিরোধী নীতি এবং তুলা উৎপাদন এলাকায় চিনিকলের সম্প্রসারণ উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এর পাশাপাশি পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক তুলা বাণিজ্যের অন্যতম প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান করাচি কটন অ্যাসোসিয়েশন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে মালিকানা বিরোধের কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তুলা বাজারে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে সেন্ট্রাল কটন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জমিতে জিমখানা ক্লাব নির্মাণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একসময় এই প্রতিষ্ঠান উপমহাদেশের প্রথম ভাইরাসমুক্ত তুলার জাত উদ্ভাবনের জন্য পরিচিত ছিল।
কর ও জ্বালানি খরচ কমানোর দাবি

কটন জিনার্স ফোরামের চেয়ারম্যান ইহসানুল হক জানিয়েছেন, পাকিস্তান কটন জিনার্স অ্যাসোসিয়েশন আগামী বাজেটে তুলা, তুলাবীজ, তুলাবীজ তেল, অয়েল কেক ও অয়েল ডার্টের ওপর বিক্রয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে অল পাকিস্তান টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন সুপার ট্যাক্স ও অন্যান্য কর প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শুল্ক কমানো এবং ঋণের সুদহার হ্রাসের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের নেতৃত্বে চূড়ান্ত হওয়া তুলা পুনরুদ্ধার কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বানও জানিয়েছে।
রেকর্ড উচ্চতায় তুলার দাম
নতুন তুলা বছর শুরু হয়েছে রেকর্ড দামের মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানে প্রতি মণ তুলার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার রুপি। ৪০ কেজি ফুটি বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার ৫০০ রুপিতে। এছাড়া তুলাবীজের দাম প্রতি মণ ৫ হাজার ২০০ রুপি এবং অয়েল কেকের দাম ৪ হাজার ৮০০ রুপিতে পৌঁছেছে।
তবে বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ঈদুল আজহার পর পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ, পাঞ্জাব ও সিন্ধে বিপুল সংখ্যক জিনিং কারখানা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আফগান সীমান্ত খুললে স্বস্তি
উপসাগরীয় সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকার পর আমদানিকৃত তুলার আংশিক চালান আবার আসতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নতির খবর এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা কমাতে চীনের মধ্যস্থতার ফলে আফগান সীমান্ত পুনরায় চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আফগানিস্তান থেকে প্রায় ৩ লাখ বেল তুলা পাকিস্তানে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















