মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ভারতীয় রুপির ওপর চাপ বাড়লেও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেছেন, বাজারে অস্বাভাবিক জল্পনা বা অস্থিরতা তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে “সুশৃঙ্খল মূল্য নির্ধারণ” নিশ্চিত করতে আরবিআই যা প্রয়োজন তাই করবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সাম্প্রতিক দরপতনের কারণে ভারতীয় রুপি এখন কিছুটা অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারতীয় রুপির মান প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব ভারতের মুদ্রাবাজারেও পড়েছে।
সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রুপির দর নামমাত্র বিনিময় হার এবং প্রকৃত কার্যকর বিনিময় হার—দুই দিক থেকেই অবমূল্যায়িত বলে মনে হতে পারে। তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রুপির মান আবারও শক্তিশালী হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরবিআইয়ের হাতে পর্যাপ্ত সক্ষমতা
গভর্নর জানান, আরবিআই কোনো নির্দিষ্ট বিনিময় হার লক্ষ্য করে কাজ করে না। তবে বাজারে অতিরিক্ত জল্পনা বা অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবে।
তিনি বলেন, আরবিআইয়ের হাতে যথেষ্ট নীতি-সরঞ্জাম রয়েছে। প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও রয়েছে, যা ব্যবহার করে বাজারে অযাচিত চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব।
চলতি হিসাব ঘাটতি কমানোর তাগিদ
সাক্ষাৎকারে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন মালহোত্রা। তিনি বলেন, এই ঘাটতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি মূলধনি হিসাবের ক্ষেত্রেও আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান লক্ষ্য
আরবিআইয়ের নীতিগত অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও সহায়তা করা হবে।
বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই অবস্থান দেশটির মুদ্রাবাজারে আস্থা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















