ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা আবারও সামনে আনল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চায় একটি “ভালো চুক্তি”, তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র “অন্য পথেও” এগোতে প্রস্তুত।
সোমবার ভারতের নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনীতিকে সুযোগ দিতে চায়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রতিনিধিদের সতর্ক করে দিয়েছেন, যেন তাড়াহুড়া করে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছানো হয়।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে সমঝোতার আভাস
রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় এমন একটি কাঠামো উঠে এসেছে যেখানে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে সময়সীমাবদ্ধ ও বাস্তবসম্মত আলোচনায় অংশ নিতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও স্বাক্ষরিত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহন করত। ফলে এই প্রণালি ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে।
তেলবাজারে স্বস্তি, তবে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, সার ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিতর্কে ইউরেনিয়াম ও নিষেধাজ্ঞা
আলোচনার সবচেয়ে জটিল অংশগুলোর একটি হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরান নীতিগতভাবে এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে রাজি হয়েছে। তবে কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন আলোচনার মূল বিষয়।

একইসঙ্গে তেহরান চায় বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের অর্থ মুক্ত করা হোক এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হোক। ইরান-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, এসব বিষয়েই এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইরানের সংসদের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, চাপ বা হুমকির কাছে ইরান নতি স্বীকার করবে না। তার ভাষায়, “সামরিক সংঘাতে চোখের বদলে চোখ, আর কূটনৈতিক সংঘাতে পদক্ষেপের বদলে পদক্ষেপ” নীতিতে চলছে তেহরান।
যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও উত্তেজনা অব্যাহত
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যে সংঘাত শুরু হয়, তাতে ইরানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। এপ্রিলের শুরু থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানে বহু মানুষের মৃত্যু ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবরও এসেছে। অন্যদিকে ইরানের হামলায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচকদের জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প সমালোচকদের উদ্দেশে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে সেটি হবে “ভালো ও যথাযথ” চুক্তি। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















