পাকিস্তানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইদংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানে চীনা কর্মী, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বৈঠকে শাহবাজ শরিফ বলেন, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থে একে অপরকে সমর্থনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
আফগানিস্তান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন পাকিস্তান সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে আসা হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান জানিয়েছে, পাল্টা প্রতিরোধে প্রতিবেশী দেশের কিছু সামরিক স্থাপনায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং দেশটির জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে চীনা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি পাকিস্তানের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন খাতে চীনের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসাও করেন। বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি প্রকল্পকে তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সিপিইসি এখনও দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

নতুন খাতে সহযোগিতার ওপর জোর
শাহবাজ শরিফ বৈঠকে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং খনিজ সম্পদ খাতে চীন ও পাকিস্তানের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। পাকিস্তান সরকার মনে করছে, এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
চীনা বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সিপিইসির গুরুত্ব বিবেচনায় পাকিস্তান সরকারের জন্য নিরাপত্তা ইস্যু এখন অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও ইসলামাবাদ বেইজিংকে আশ্বস্ত করতে চাইছে যে, চীনা নাগরিক ও বিনিয়োগের নিরাপত্তায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















