মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস পরিচালিত একটি ভাসমান তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহ জাহাজে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। লাইফবোট রক্ষণাবেক্ষণের সময় সেটি হঠাৎ সাগরে পড়ে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও একজন কর্মী, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার তেরেঙ্গানু উপকূলের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ নেমে আসে। সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে দেখা দেয় গভীর উদ্বেগ ও কান্না।
লাইফবোট রক্ষণাবেক্ষণের সময় দুর্ঘটনা
পেট্রোনাস জানিয়েছে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে কয়েকজন কর্মী লাইফবোটে করে নিচে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় লাইফবোটের সঙ্গে সংযুক্ত দড়ি বা হুক হঠাৎ খুলে গেলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও তিন কর্মীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন আহমাদ ফিকরি জাকারিয়া, মুহাম্মদ ফায়েজুয়ান হাকিম মোহাম্মদ বুস্তামাম এবং নিক মুহাম্মদ হাফিফি আসরি আব মাজিদ।
আহত মোহদ তৌফিক মোহদ রুসলান বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ
কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পেট্রোনাস জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি ছিল কি না সেটিও পরীক্ষা করা হবে।
ঘটনার পর সমুদ্রভিত্তিক শিল্প খাতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর কান্নায় ভারী হাসপাতাল
নিহত কর্মী মুহাম্মদ ফায়েজুয়ানের মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা ছিল।
স্ত্রী জানান, বিকেলে কোম্পানির পক্ষ থেকে ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি স্বামীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হন। স্বামীর সন্তান জন্মের সময় পাশে থাকার স্বপ্ন এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।
অভিজ্ঞ সমুদ্রকর্মী ছিলেন ফায়েজুয়ান
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফায়েজুয়ান ২০১৯ সাল থেকে সমুদ্রভিত্তিক বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি নতুন এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহের দায়িত্ব শেষে আগামী মাসের শুরুতেই বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার।
এই দুর্ঘটনা আবারও সমুদ্রভিত্তিক জাহাজ ও তেল শিল্পে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















