বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, তহবিল সংকট এবং শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সদস্যসংখ্যা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের ভূমিকা অনেকটাই দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপ্রি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যসংখ্যা নেমে এসেছে ৭৯ হাজারের নিচে। গত ২৫ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা। ২০১৬ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশ কমেছে।
সংকটে জাতিসংঘের মিশন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ পরিচালিত শান্তিরক্ষা মিশনগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। বড় দাতা দেশগুলো আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘকে সদস্যসংখ্যা কমাতে বাধ্য হতে হয়েছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের তহবিল ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট শুধু অর্থের অভাবের কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক বিভাজনও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ায় বিভিন্ন মিশনের মেয়াদ নবায়নও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাড়ছে ভূরাজনৈতিক চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং শক্তিধর দেশগুলোর স্বার্থকেন্দ্রিক অবস্থান শান্তিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। অনেক দেশ এখন বহুপাক্ষিক উদ্যোগের বদলে নিজস্ব বা দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে।
এতে সংঘাত মোকাবিলার আন্তর্জাতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংঘাত দেখা দিতে পারে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিও বাড়তে পারে।

লেবানন মিশন নিয়ে বিতর্ক
প্রতিবেদনে লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কিছু প্রভাবশালী দেশ মিশন বন্ধের দাবি তুলেছে, যদিও সেখানে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
গবেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের রাজনৈতিক চাপ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
এখনো রয়েছে সমর্থন
তবে সংকটের মধ্যেও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। অনেক দেশ এখনো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
গবেষকদের মতে, শুধু সমর্থনের কথা বললেই হবে না, কার্যকর শান্তিরক্ষা বজায় রাখতে নিয়মিত অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক সহযোগিতাও নিশ্চিত করতে হবে। না হলে আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবিলার বর্তমান কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















