ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা এবং সাইবার হুমকির প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে উদ্যোগী হয়েছে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া। দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো এক কর্মশালায় মিলিত হয়ে যৌথ কাজের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এই কর্মশালার আয়োজন করে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সমাধান প্রতিষ্ঠান পিটি মিরাজ ডিফেন্স ইন্দোনেশিয়া। এতে সহযোগী হিসেবে ছিল সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এসটি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা কনসোর্টিয়াম ডিফেন্ড আইডি।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর দেদি লাকসমোনো উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংকট এবং সাইবার হুমকি দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে বাধ্য করছে।
তিনি জানান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে ইন্দোনেশিয়া শুধু সরকার পর্যায়ের সম্পর্ক হিসেবে দেখছে না, বরং প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রযুক্তি ও যৌথ উৎপাদনে জোর
দেদি লাকসমোনো বলেন, ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক আরও মজবুত ভিত্তি পেয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুরের প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেন, এসটি ইঞ্জিনিয়ারিং একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
তিনি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ, যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন সহযোগিতার প্রস্তাব দেন।

সামুদ্রিক নিরাপত্তায় অভিন্ন স্বার্থ
সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি এবং এসটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চুয়া জিন কিয়াত বলেন, দুই দেশই সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। তাই মালাক্কা প্রণালি ও দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে কৌশলগত সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর আকারে ছোট হওয়ায় সংকটকালে প্রতিবেশী দেশগুলোর, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই প্রতিরক্ষা শিল্প পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে।
চুয়া আরও বলেন, সরকার ও সামরিক পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এসটি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিফেন্ড আইডি নিজ নিজ দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
ডিজিটাল ও সাইবার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
কর্মশালায় এসটি ইঞ্জিনিয়ারিং জানায়, তারা ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় কনটেন্ট ও অফসেট নীতিকে সম্মান জানিয়ে চারটি খাতে যৌথ কাজের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে স্থল প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মহাকাশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
কর্মশালায় দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে উপস্থাপনা করেন। পরে ব্যবসা-টু-ব্যবসা বৈঠকে দুই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইউনিট নিজেদের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করে।
ডিফেন্ড আইডি মূলত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে পিটি লেন ইন্ডাস্ট্রি, পিটি দিরগান্তারা ইন্দোনেশিয়া, পিটি পিনদাদ, পিটি পিএএল ইন্দোনেশিয়া এবং পিটি দাহানা। অন্যদিকে এসটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভিন্ন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্লাস্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















