যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্রিডম ২৫০’ উৎসব ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এমনকি পরিকল্পিত কনসার্ট সিরিজের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের কথাও বলেছেন।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে ১৬ দিনব্যাপী এই উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে কয়েকজন পরিচিত শিল্পী অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পুরো আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কেন সরে গেলেন শিল্পীরা
উৎসব থেকে সরে যাওয়া শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন কয়েকজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ব্যান্ড সদস্য। তাদের অভিযোগ, শুরুতে অনুষ্ঠানটিকে নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও পরে এর সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কিছু শিল্পী জানান, আয়োজনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি। তারা এমন একটি পরিবেশে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, যেখানে রাজনৈতিক বিতর্ক বা পক্ষপাতের ছাপ থাকবে না। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, অনুষ্ঠানটিকে অরাজনৈতিক বলে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর ছিল।

ট্রাম্পের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
শিল্পীদের এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, কিছু শিল্পী শেষ মুহূর্তে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে একই সময় ও স্থানে ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’ বা ‘মাগা’ ধরনের একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়।
নিজের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বিশ্বের যেকোনো স্থানে তিনিই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পাশাপাশি অনুষ্ঠান থেকে সরে যাওয়া শিল্পীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নেন এবং দর্শকদের কাছে তেমন আকর্ষণীয় নন।
তবুও থাকছেন কিছু শিল্পী
বিতর্কের মধ্যেও কয়েকজন শিল্পী অনুষ্ঠানে থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তাদের মতে, এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য দেশের স্বাধীনতা উদযাপন করা, রাজনৈতিক প্রচারণা নয়।
তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তি একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ এবং সেটিকে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে রেখে উদযাপন করা উচিত।
উৎসবের পেছনের প্রেক্ষাপট

‘ফ্রিডম ২৫০’ উদ্যোগটি গত বছর গঠিত একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে শুরু হয়। আয়োজকরা নিজেদের নিরপেক্ষ সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও এর নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। বিতর্কের মধ্যেও হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু কর্মসূচির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
আগামী ২৪ জুন এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে শিল্পীদের সরে যাওয়া এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে পুরো আয়োজনের ভবিষ্যৎ এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















