০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ গরমের দিনে ক্যাট চেনের ঘরোয়া আড্ডা, যেখানে খাবার-পানীয়ের সঙ্গে মিশে যায় স্বস্তি জিএলপি-১ ওষুধের যুগে বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যের ধারণা শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ২৫ ঘণ্টা পর বিল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্বস্তি, নেটে ফিরেছেন তানজিদ-মুশফিক পুরুষের সাজে নতুন ঝলক, কানে দুলের দাপট চীনে মার্কিন শিক্ষাবিদের আটক নিয়ে রুবিওর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বেইজিংয়ের দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া হলো না হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যু ৯২৮ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

ট্রাম্প-পরবর্তী আমেরিকা: পুরোনো স্বাভাবিকতায় ফেরা কেন যথেষ্ট নয়

আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আছে যেগুলোকে কেবল নির্বাচন ফলাফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সেগুলো রাষ্ট্রের চরিত্র, ক্ষমতার কাঠামো এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তুলে দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন তেমনই একটি ঘটনা। এটি শুধু একজন রাজনীতিকের পুনরাগমন নয়; বরং আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এক ধরনের আদর্শিক রূপান্তরের প্রকাশ।

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তার, ফেডারেল প্রতিষ্ঠানের দুর্বলীকরণ, জনস্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোর ক্ষয়, এবং সামাজিক সমতার প্রশ্নে পশ্চাদমুখী অবস্থান—এসবের পেছনে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দর্শন কাজ করছে। সেই দর্শনের লক্ষ্য শুধু নীতি পরিবর্তন নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা।

এ কারণেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও কেবল নতুন কিছু নীতিগত প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। যদি এক পক্ষ রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোয়, তবে তাদের প্রতিপক্ষও কেবল করনীতি, সামাজিক ব্যয় বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার তালিকা তৈরি করে দায় সেরে ফেলতে পারে না। প্রশ্ন হলো, তারা কেমন আমেরিকা গড়তে চায়?

নীতির তালিকা নয়, রাষ্ট্রের ধারণা

Polarization, Democracy, and Political Violence in the United States: What  the Research Says | Carnegie Endowment for International Peace

ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলো তারা প্রায়ই নিজেদের পরিচয়কে নীতিগত কর্মসূচির সমষ্টি হিসেবে তুলে ধরে। শিশু পরিচর্যা, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ, কর্পোরেট জবাবদিহি বা সামাজিক সুরক্ষা—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এগুলো রাষ্ট্র সম্পর্কে একটি সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গির বিকল্প হতে পারে না।

যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃতি নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা হাজির করছে, তখন শুধুমাত্র জনপ্রিয় কিছু নীতির প্যাকেজ ভোটারদের সামনে তুলে ধরা যথেষ্ট নয়। কারণ ক্ষমতায় এসে সেই নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য যে প্রতিষ্ঠান, আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রয়োজন, সেগুলো যদি দুর্বল বা প্রতিকূল হয়ে থাকে, তাহলে ভালো নীতিও কাগজেই থেকে যাবে।

আজকের আমেরিকায় এই বাস্তবতা স্পষ্ট। সিনেটের কার্যপ্রণালী, রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী এলাকার পক্ষপাতমূলক বিন্যাস এবং নির্বাহী ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ—এসব প্রশ্ন পাশ কাটিয়ে কোনো রাজনৈতিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সফল হতে পারে না।

সংবিধান নিয়ে নতুন চিন্তার প্রয়োজন

মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্ক এখন ক্ষমতার উৎস ও সীমা নিয়ে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেই প্রশ্ন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

U.S. Democratic Backsliding in Comparative Perspective | Carnegie Endowment  for International Peace

ট্রাম্পপন্থী রক্ষণশীলদের একটি অংশ সংবিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করে, যেখানে প্রেসিডেন্টের হাতে ব্যাপক এবং প্রায় অবারিত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। তাদের দৃষ্টিতে নির্বাহী শাখাই জাতীয় ইচ্ছার প্রধান প্রতিনিধি। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনা ক্রমশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়ে।

কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি ব্যক্তির মধ্যে নয়, প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিহিত। যদি একটি রাজনৈতিক আন্দোলন সত্যিই গণতন্ত্র পুনর্গঠন করতে চায়, তবে তাকে সংবিধান সম্পর্কে নিজস্ব সুস্পষ্ট অবস্থান তৈরি করতে হবে। শুধু কোন নীতি প্রণয়ন করা হবে তা নয়, বরং কোন সাংবিধানিক দর্শনের ভিত্তিতে সেই নীতি কার্যকর হবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাসের শিক্ষা

আমেরিকার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন যুগ এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সে সময় রিপাবলিকান নেতারা কেবল যুদ্ধের ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করেননি; তারা রাষ্ট্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তিকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। সমতা, নাগরিক অধিকার এবং জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে সরকার পরিচালনার ধারণাকে তারা সাংবিধানিক কাঠামোর অংশে পরিণত করেছিলেন।

Civil War and Reconstruction, 1861-1877 | Gilder Lehrman Institute of American  History

তাদের রাজনৈতিক সাহস শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রয়োজন হলে তারা প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করেছেন, বিচারব্যবস্থার ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছেন।

এই ইতিহাস দেখায় যে বড় সংকটের পর বড় পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়। পুরোনো ব্যবস্থাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সব সময় সম্ভব নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা কাম্যও নয়।

ফিরে যাওয়ার পথ নেই

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকে যদি কেবল আরেকটি রাজনৈতিক অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়, তাহলে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা হবে না। বাস্তবে এটি আমেরিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত। যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসময় স্থায়ী ও নিরাপদ বলে মনে করা হতো, সেগুলোর অনেকগুলোই এখন প্রশ্নের মুখে।

Trump Hates the Constitution

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় ভুল হবে অতীতের স্বাভাবিক অবস্থাকে পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখা। কারণ সেই স্বাভাবিকতাই শেষ পর্যন্ত বর্তমান সংকটের জন্ম দিয়েছে। যদি রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেবল আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতের জন্য কোনো কার্যকর উত্তর দিতে পারবে না।

আমেরিকার সামনে আজ পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জ। সেই পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজন একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক কল্পনা, সাংবিধানিক সাহস এবং রাষ্ট্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা। শুধু প্রতিপক্ষের নীতির বিরোধিতা নয়, বরং বিকল্প এক গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তার উত্তরও দিতে হবে।

কারণ কিছু পরিবর্তন এমন হয়, যার পরে পুরোনো অবস্থায় ফিরে যাওয়া আর সম্ভব থাকে না। তখন প্রশ্ন থাকে না কীভাবে অতীতকে ফিরিয়ে আনা যায়; প্রশ্ন হয় কীভাবে নতুন বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে আরও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ

ট্রাম্প-পরবর্তী আমেরিকা: পুরোনো স্বাভাবিকতায় ফেরা কেন যথেষ্ট নয়

০৩:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আছে যেগুলোকে কেবল নির্বাচন ফলাফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সেগুলো রাষ্ট্রের চরিত্র, ক্ষমতার কাঠামো এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তুলে দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন তেমনই একটি ঘটনা। এটি শুধু একজন রাজনীতিকের পুনরাগমন নয়; বরং আমেরিকার রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এক ধরনের আদর্শিক রূপান্তরের প্রকাশ।

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তার, ফেডারেল প্রতিষ্ঠানের দুর্বলীকরণ, জনস্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোর ক্ষয়, এবং সামাজিক সমতার প্রশ্নে পশ্চাদমুখী অবস্থান—এসবের পেছনে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দর্শন কাজ করছে। সেই দর্শনের লক্ষ্য শুধু নীতি পরিবর্তন নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা।

এ কারণেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও কেবল নতুন কিছু নীতিগত প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। যদি এক পক্ষ রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোয়, তবে তাদের প্রতিপক্ষও কেবল করনীতি, সামাজিক ব্যয় বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার তালিকা তৈরি করে দায় সেরে ফেলতে পারে না। প্রশ্ন হলো, তারা কেমন আমেরিকা গড়তে চায়?

নীতির তালিকা নয়, রাষ্ট্রের ধারণা

Polarization, Democracy, and Political Violence in the United States: What  the Research Says | Carnegie Endowment for International Peace

ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলো তারা প্রায়ই নিজেদের পরিচয়কে নীতিগত কর্মসূচির সমষ্টি হিসেবে তুলে ধরে। শিশু পরিচর্যা, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ, কর্পোরেট জবাবদিহি বা সামাজিক সুরক্ষা—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু এগুলো রাষ্ট্র সম্পর্কে একটি সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গির বিকল্প হতে পারে না।

যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃতি নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা হাজির করছে, তখন শুধুমাত্র জনপ্রিয় কিছু নীতির প্যাকেজ ভোটারদের সামনে তুলে ধরা যথেষ্ট নয়। কারণ ক্ষমতায় এসে সেই নীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য যে প্রতিষ্ঠান, আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রয়োজন, সেগুলো যদি দুর্বল বা প্রতিকূল হয়ে থাকে, তাহলে ভালো নীতিও কাগজেই থেকে যাবে।

আজকের আমেরিকায় এই বাস্তবতা স্পষ্ট। সিনেটের কার্যপ্রণালী, রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী এলাকার পক্ষপাতমূলক বিন্যাস এবং নির্বাহী ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ—এসব প্রশ্ন পাশ কাটিয়ে কোনো রাজনৈতিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সফল হতে পারে না।

সংবিধান নিয়ে নতুন চিন্তার প্রয়োজন

মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বড় বিতর্ক এখন ক্ষমতার উৎস ও সীমা নিয়ে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেই প্রশ্ন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

U.S. Democratic Backsliding in Comparative Perspective | Carnegie Endowment  for International Peace

ট্রাম্পপন্থী রক্ষণশীলদের একটি অংশ সংবিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করে, যেখানে প্রেসিডেন্টের হাতে ব্যাপক এবং প্রায় অবারিত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। তাদের দৃষ্টিতে নির্বাহী শাখাই জাতীয় ইচ্ছার প্রধান প্রতিনিধি। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনা ক্রমশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়ে।

কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি ব্যক্তির মধ্যে নয়, প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিহিত। যদি একটি রাজনৈতিক আন্দোলন সত্যিই গণতন্ত্র পুনর্গঠন করতে চায়, তবে তাকে সংবিধান সম্পর্কে নিজস্ব সুস্পষ্ট অবস্থান তৈরি করতে হবে। শুধু কোন নীতি প্রণয়ন করা হবে তা নয়, বরং কোন সাংবিধানিক দর্শনের ভিত্তিতে সেই নীতি কার্যকর হবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাসের শিক্ষা

আমেরিকার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন যুগ এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সে সময় রিপাবলিকান নেতারা কেবল যুদ্ধের ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করেননি; তারা রাষ্ট্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তিকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। সমতা, নাগরিক অধিকার এবং জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে সরকার পরিচালনার ধারণাকে তারা সাংবিধানিক কাঠামোর অংশে পরিণত করেছিলেন।

Civil War and Reconstruction, 1861-1877 | Gilder Lehrman Institute of American  History

তাদের রাজনৈতিক সাহস শুধু বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রয়োজন হলে তারা প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করেছেন, বিচারব্যবস্থার ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছেন।

এই ইতিহাস দেখায় যে বড় সংকটের পর বড় পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়। পুরোনো ব্যবস্থাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সব সময় সম্ভব নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা কাম্যও নয়।

ফিরে যাওয়ার পথ নেই

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকে যদি কেবল আরেকটি রাজনৈতিক অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়, তাহলে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা হবে না। বাস্তবে এটি আমেরিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত। যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসময় স্থায়ী ও নিরাপদ বলে মনে করা হতো, সেগুলোর অনেকগুলোই এখন প্রশ্নের মুখে।

Trump Hates the Constitution

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় ভুল হবে অতীতের স্বাভাবিক অবস্থাকে পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখা। কারণ সেই স্বাভাবিকতাই শেষ পর্যন্ত বর্তমান সংকটের জন্ম দিয়েছে। যদি রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেবল আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতের জন্য কোনো কার্যকর উত্তর দিতে পারবে না।

আমেরিকার সামনে আজ পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জ। সেই পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজন একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক কল্পনা, সাংবিধানিক সাহস এবং রাষ্ট্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা। শুধু প্রতিপক্ষের নীতির বিরোধিতা নয়, বরং বিকল্প এক গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তার উত্তরও দিতে হবে।

কারণ কিছু পরিবর্তন এমন হয়, যার পরে পুরোনো অবস্থায় ফিরে যাওয়া আর সম্ভব থাকে না। তখন প্রশ্ন থাকে না কীভাবে অতীতকে ফিরিয়ে আনা যায়; প্রশ্ন হয় কীভাবে নতুন বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে আরও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা যায়।