জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর আওতায় পরিচালিত এক তদন্তের ভিত্তিতে এই প্রস্তাব সামনে এনেছে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত সব ধরনের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। এতে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বাড়বে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোন দেশগুলো তালিকায়
ইউএসটিআর তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে দেশগুলোকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রথম দলে রাখা হয়েছে সেসব দেশকে, যারা আংশিকভাবে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়েছে অথবা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এ ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তান।

অন্যদিকে দ্বিতীয় দলে রাখা হয়েছে সেই দেশগুলোকে, যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর বা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একই গ্রুপে রয়েছে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াসহ মোট ৫৪টি দেশ।
কেন এই পদক্ষেপ
ইউএসটিআর বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যর্থতার কারণে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত কম দামের পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক ও শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের অনেকেই জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তার মতে, এ পরিস্থিতি মার্কিন শ্রমিকদের জন্য প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং এটি আর মেনে নেওয়া হবে না।
টেক্সটাইল খাতে সম্ভাব্য ছাড়
প্রস্তাবের অংশ হিসেবে একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’ চালুর কথাও বলা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সীমিত পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এটি সম্ভাব্য স্বস্তির বিষয় হতে পারে। তবে বাংলাদেশ এ সুবিধা পাবে কি না, তা পরবর্তী শুনানি ও আলোচনার পরই স্পষ্ট হবে।

এখন কী হবে
প্রস্তাবিত শুল্ক এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইউএসটিআর এ বিষয়ে অংশীজনদের মতামত, আপত্তি ও শুনানির সুযোগ দিচ্ছে। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত গণশুনানিতে অংশগ্রহণের আবেদন এবং বক্তব্যের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া যাবে। ৬ জুলাই পর্যন্ত লিখিত মতামত বা আপত্তি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ফলে অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকার এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো, বিশেষ করে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ, শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ শুল্ক-সুবিধা বা ছাড় আদায়ের চেষ্টাও করতে পারবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















