চীনের সঙ্গে করা বহুল আলোচিত নিরাপত্তা চুক্তি পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছেন সলোমন দ্বীপপুঞ্জের নতুন প্রধানমন্ত্রী ম্যাথিউ ওয়ালে। ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, ভবিষ্যতে এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌ উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া সফরকালে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওয়ালে জানান, তিনি সম্প্রতি চুক্তির একটি কপি হাতে পেয়েছেন এবং এখনও এর বিস্তারিত পর্যালোচনা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে গোপনীয়তার একটি ধারা রয়েছে, যার কারণে এটি তাৎক্ষণিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
নিরাপত্তা চুক্তিগুলোর সামগ্রিক পর্যালোচনা
নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু চীনের সঙ্গে করা চুক্তিই নয়, বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের বিদ্যমান অন্যান্য নিরাপত্তা চুক্তিও সরকার পর্যালোচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই ওয়ালে চুক্তিটির বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

গত ১৫ মে সংসদীয় ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এটি তার প্রথম বড় নীতিগত পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের প্রতিক্রিয়া
ওয়ালের ঘোষণার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার আগ্রহও প্রকাশ করে চীন।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ‘নতুনভাবে শুরু’
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ওয়ালের এটি প্রথম বিদেশ সফর। অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কেন্দ্রিক একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছেন।
ওয়ালে বলেন, আগের সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে চায় তার সরকার।
অন্যদিকে আলবানিজ পুনর্ব্যক্ত করেন, অস্ট্রেলিয়া চায় সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে তাদের অবস্থান বজায় থাকুক, চীনের নয়। তিনি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি সমর্থন
ওয়ালেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ধারণাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তার সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে আগ্রহী।
বর্তমান নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় চীন ইতোমধ্যে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছে। দেশটির নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী না থাকায় জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পটভূমি
২০১৯ সালে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ তাইওয়ানের পরিবর্তে চীনকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়। সে সময়ের এই সিদ্ধান্তকে বেইজিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে, যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল ২০২২ সালের নিরাপত্তা চুক্তি।
চুক্তিটি এখন নতুন সরকারের পর্যালোচনার মুখে পড়ায় দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতি আবারও নতুন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















