প্যারিসের মাটির কোর্টে এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন যেন চমকের পর চমক উপহার দিচ্ছে। টুর্নামেন্টের একাদশ দিনে এসে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে পুরুষ ও নারী—দুই একক বিভাগেই নিশ্চিতভাবে একজন নতুন গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়নের দেখা মিলবে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন দৃশ্য টেনিস বিশ্ব খুব কমই দেখেছে।
শুরু থেকেই তারকাদের বিদায়
পুরুষ বিভাগের নাটকীয়তা শুরু হয় মূল পর্ব শুরুর আগেই। চোটের কারণে সরে দাঁড়ান টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ। ফলে বিশ্বের এক নম্বর ইয়ানিক সিনারকে সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত জয়ের ধারায় থাকা ইতালিয়ান তারকা দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধাই পেরোতে পারেননি।
এরপর নজর যায় নোভাক জোকোভিচের দিকে। আলকারাজ ও সিনার ছিটকে যাওয়ায় অভিজ্ঞ এই সার্বিয়ান তারকাকে অনেকেই শিরোপার প্রধান দাবিদার ভাবতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু তিনিও তৃতীয় রাউন্ডে ১৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান প্রতিভা জোয়াও ফনসেকার কাছে হেরে বিদায় নেন। ফলে পুরুষ বিভাগের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়।

নারী বিভাগেও একই চিত্র
নারী বিভাগের লড়াইটাও ছিল সমান নাটকীয়। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী এলেনা রিবাকিনা শুরুতেই বিদায় নেন। এরপর ছিটকে যান বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কোকো গফ। চারবারের ফ্রেঞ্চ ওপেনজয়ী ইগা শভিয়ন্তেকও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
সবশেষ বড় ধাক্কা আসে বিশ্বের এক নম্বর আরিনা সাবালেঙ্কার বিদায়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ডায়ানা শ্নাইডার অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে তাকে হারিয়ে দেন। ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত লড়াই করে জয় তুলে নেন তিনি। সেই জয়ের পরই নিশ্চিত হয়ে যায়, এবারের নারী বিভাগেও নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখা যাবে।
পুরুষ বিভাগে জভেরেভ কি সবচেয়ে এগিয়ে?
সেমিফাইনালে পৌঁছানো চার খেলোয়াড়ের মধ্যে অভিজ্ঞতার বিচারে এগিয়ে আছেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। জার্মান তারকা এর আগে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলেছেন এবং ফ্রেঞ্চ ওপেনেও ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বড় শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়েও সাফল্য পাননি তিনি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি তার পক্ষে। বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনুপস্থিতিতে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
অন্যদিকে ইয়াকুব মেনশিক তরুণ ও নির্ভীক। ফেলিক্স অজে-আলিয়াসিমের অভিজ্ঞতাও কম নয়। আর মাত্তেও আরনালদি নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন। তবুও কাগজে-কলমে জভেরেভই সবচেয়ে বড় দাবিদার।
নারী বিভাগে হিসাব আরও জটিল
নারী বিভাগের সেমিফাইনাল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা আরও কঠিন। অবশিষ্ট খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ বাছাই মিরা আন্দ্রেয়েভা। এর আগে তিনি ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনাল খেলেছেন, যা তাকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

তবে মার্তা কস্তিউক দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি শেষ চারে উঠেছেন। সাম্প্রতিক ক্লে কোর্ট মৌসুমেও তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।
অন্যদিকে সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছেন ডায়ানা শ্নাইডার। আর অপ্রত্যাশিতভাবে সেমিফাইনালে উঠে আসা মাজা খভালিনস্কাও ইতোমধ্যে একাধিক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিদায় করেছেন।
নতুন যুগের সূচনা?
ফ্রেঞ্চ ওপেনের এবারের আসর প্রমাণ করে দিয়েছে যে টেনিসে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। প্রতিষ্ঠিত তারকাদের বিদায়ের পর নতুন মুখগুলো নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর বড় মঞ্চ পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই বিশৃঙ্খল ও রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা শেষে কারা নিজেদের নাম ইতিহাসের পাতায় প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে লিখে নিতে পারেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















