জাপানে চলতি বছর আরও শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এল নিনো পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় টাইফুনগুলো আগের তুলনায় বেশি শক্তি ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
সম্প্রতি জাপানে আঘাত হানা টাইফুন জাংমি এই মৌসুমের সম্ভাব্য চিত্রের একটি আগাম ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঝড়টি সড়ক ও নদী প্লাবিত করেছে, বহু মানুষকে আহত করেছে এবং বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি করেছে।
জুনে বিরল টাইফুনের আঘাত
জাংমি জুন মাসে জাপানে আঘাত হানা একটি বিরল টাইফুন। দীর্ঘদিনের আবহাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫১ সালের পর থেকে জুন মাসে খুব কম সংখ্যক টাইফুন দেশটিতে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। এ বছরের এই ঝড়টি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে জুনে প্রথম বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলের অস্বাভাবিক প্রবাহ এবং জেট বায়ুর অবস্থান পরিবর্তনের কারণে জাংমি জাপানের দিকে অগ্রসর হতে পেরেছে। সাধারণত এ সময়ের বায়ুপ্রবাহ অনেক ঝড়কে জাপানের উপকূলে পৌঁছানোর আগেই পূর্ব দিকে সরিয়ে দেয়।
উষ্ণ সমুদ্র বাড়াচ্ছে ঝড়ের শক্তি
গবেষকদের মতে, জাপানের আশপাশের সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় এক থেকে দুই ডিগ্রি বেশি ছিল। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প জমা হয়েছে, যা ভারী বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী ঝড়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে টাইফুন ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাব একসঙ্গে মিলিত হয়ে অনেক এলাকায় অস্বাভাবিক বৃষ্টির সৃষ্টি করতে পারে।
চলতি মৌসুমে বেশি টাইফুনের পূর্বাভাস
আবহাওয়া বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এ বছর মোট ২৮টি টাইফুন সৃষ্টি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে বেশি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঝড় জাপানের কাছাকাছি বা স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটায়। এই পরিস্থিতিতে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে জাপানের উপকূলীয় সমুদ্র উষ্ণ থাকায় ঝড়গুলো উত্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরও তাদের শক্তি দ্রুত হারায় না।
ভারী বর্ষণের ঝুঁকিও বাড়ছে
শুধু টাইফুন নয়, অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপান সাগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত উষ্ণ সমুদ্রের কারণে প্রবল বৃষ্টিপাতের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।
গত কয়েক বছরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি দেখা গেছে। চলতি বছরও এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সতর্ক থাকার আহ্বান
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় অতীতের আবহাওয়া ধারা আর সবসময় কার্যকর নির্দেশক হিসেবে কাজ করছে না। ফলে গ্রীষ্মকালজুড়ে শক্তিশালী টাইফুন, ভারী বর্ষণ এবং বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েক মাস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে, যা ঝড় ও বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















