গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের পাঁচ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে ৭৯ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে বিজিবির টহল ও সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার বিজিবি সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে জানান, নেত্রকোনা, নওগাঁ, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সক্রিয় অবস্থানে থেকে অনুপ্রবেশের সব চেষ্টা প্রতিহত করেছেন।
ঝিনাইদহ ও নওগাঁ সীমান্তে প্রতিরোধ
ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-৫৮) সদস্যরা যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা থেকে বিরত রাখেন। বিজিবি সদস্যরা শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নিয়ে তাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিলে তারা পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।
অন্যদিকে নওগাঁর করমডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা বিজিবি-১৬ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ব্যর্থ করে দেন।

লালমনিরহাটে একাধিক চেষ্টা
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বর্কাতা ও পয়সট্টিবারী সীমান্ত এলাকায় তিস্তা ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-৬১) সদস্যরা ২১ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দেন।
এ ছাড়া লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) সদস্যরা দিঘলতারী সীমান্ত দিয়ে সাতজন এবং দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে আরও চারজনকে প্রবেশের চেষ্টা থেকে ফিরিয়ে দেন।
বিজিবি জানায়, এসব ব্যক্তি বর্তমানে ভারতীয় অংশে কাঁটাতারের বাইরের একটি চর এলাকায় অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পঞ্চগড়ে পতাকা বৈঠক
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ১০ জনকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরের অংশে নিয়ে আসে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে বিজিবি জানিয়েছে। বিষয়টি এখনো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নেত্রকোনায় অবস্থান পরিবর্তন
নেত্রকোনা সীমান্তেও অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, আসামের মহাদেব থানা এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগে থেকে অবস্থান করা ১৬ থেকে ১৭ জনকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পরবর্তীতে চিকনি বিএসএফ ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান
বিজিবি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন এবং বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী কোনো ‘পুশ-ইন’ প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
বাহিনীটি জানিয়েছে, সীমান্ত পথে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















