০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

নিকোবরের নির্বাচনী পরিকল্পনা ঘিরে উদ্বেগ, ঐতিহ্যবাহী শাসনব্যবস্থা হারানোর আশঙ্কা

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নিকোবারি আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের খসড়া নির্বাচনী বিধিমালা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন দ্বীপের আদিবাসী পরিষদ ও গ্রামপ্রধানদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নারীদের জন্য আসন ও নেতৃত্বের পদ সংরক্ষণ এবং ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় গ্রাম পরিষদ এবং দ্বীপভিত্তিক আদিবাসী পরিষদ গঠন করা হবে, যাদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

কী রয়েছে নতুন প্রস্তাবে

খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ভোটার তালিকা তৈরি, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এর মাধ্যমে নিকোবারি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব আরও সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে।

এই বিধিমালা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করেছে আদিবাসী কল্যাণ দপ্তর। এটি ২০০৯ সালের আদিবাসী পরিষদ সংক্রান্ত বিধানের আওতায় আনা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

তবে নিকোবরের অনেক গ্রামপ্রধান ও আদিবাসী নেতার আশঙ্কা, এই উদ্যোগ তাদের বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহ্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যাবে।

বিশেষ করে গ্রেট নিকোবর দ্বীপে এই উদ্বেগ আরও বেশি। সেখানে বিদ্যমান আদিবাসী পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে একটি বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে, যারা কেন্দ্রের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল হবে—এমন সন্দেহও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জীবিকা এবং সামাজিক সম্পর্ক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত হয়েছে। নির্বাচনী রাজনীতি সেই ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

শিক্ষা ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ

বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও প্রশ্ন রয়েছে। নিকোবারি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা প্রথম নৃতত্ত্ববিদদের একজনের মতে, এর আগেও এমন নির্বাচনী ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা হয়েছিল। তখনও বাস্তবায়ন নিয়ে নানা জটিলতার কথা সামনে এসেছিল।

অনেকের মতে, দ্বীপগুলোর প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার হার ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় না নিলে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আলোচনা আরও জোরদার

খসড়া বিধিমালা প্রকাশের পর বিভিন্ন দ্বীপের আদিবাসী পরিষদে জরুরি বৈঠক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় এই উদ্বেগ ও পরামর্শগুলো কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিকোবরের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে দ্বীপপুঞ্জজুড়ে এখন গভীর আগ্রহ ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

বিবরণ: নিকোবারি আদিবাসীদের জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থা চালুর খসড়া বিধিমালা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

নিকোবরের নির্বাচনী পরিকল্পনা ঘিরে উদ্বেগ, ঐতিহ্যবাহী শাসনব্যবস্থা হারানোর আশঙ্কা

০৭:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নিকোবারি আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের খসড়া নির্বাচনী বিধিমালা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন দ্বীপের আদিবাসী পরিষদ ও গ্রামপ্রধানদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নারীদের জন্য আসন ও নেতৃত্বের পদ সংরক্ষণ এবং ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় গ্রাম পরিষদ এবং দ্বীপভিত্তিক আদিবাসী পরিষদ গঠন করা হবে, যাদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

কী রয়েছে নতুন প্রস্তাবে

খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ভোটার তালিকা তৈরি, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এর মাধ্যমে নিকোবারি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব আরও সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে।

এই বিধিমালা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করেছে আদিবাসী কল্যাণ দপ্তর। এটি ২০০৯ সালের আদিবাসী পরিষদ সংক্রান্ত বিধানের আওতায় আনা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

তবে নিকোবরের অনেক গ্রামপ্রধান ও আদিবাসী নেতার আশঙ্কা, এই উদ্যোগ তাদের বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহ্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যাবে।

বিশেষ করে গ্রেট নিকোবর দ্বীপে এই উদ্বেগ আরও বেশি। সেখানে বিদ্যমান আদিবাসী পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে একটি বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে। নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে, যারা কেন্দ্রের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল হবে—এমন সন্দেহও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জীবিকা এবং সামাজিক সম্পর্ক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত হয়েছে। নির্বাচনী রাজনীতি সেই ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

শিক্ষা ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ

বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও প্রশ্ন রয়েছে। নিকোবারি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা প্রথম নৃতত্ত্ববিদদের একজনের মতে, এর আগেও এমন নির্বাচনী ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা হয়েছিল। তখনও বাস্তবায়ন নিয়ে নানা জটিলতার কথা সামনে এসেছিল।

অনেকের মতে, দ্বীপগুলোর প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার হার ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় না নিলে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আলোচনা আরও জোরদার

খসড়া বিধিমালা প্রকাশের পর বিভিন্ন দ্বীপের আদিবাসী পরিষদে জরুরি বৈঠক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় এই উদ্বেগ ও পরামর্শগুলো কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিকোবরের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে দ্বীপপুঞ্জজুড়ে এখন গভীর আগ্রহ ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

বিবরণ: নিকোবারি আদিবাসীদের জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থা চালুর খসড়া বিধিমালা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।