সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি রাজপথে নেমেছে। শনিবার নয়াদিল্লিতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বড় ধরনের সড়ক বিক্ষোভ, যেখানে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
গত কয়েক সপ্তাহে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলা এই আন্দোলন মূলত বেকারত্ব, চাকরির সংকট এবং পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ক্ষোভকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম ভারতে এসে সরাসরি কর্মসূচিতে অংশ নিলেন।
বিমানবন্দর থেকে বিক্ষোভস্থলে
নয়াদিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শত শত সমর্থক অভিজিৎ দীপককে স্বাগত জানান। স্লোগানে মুখর পরিবেশে তিনি ভারতের সংবিধানের একটি কপি হাতে নিয়ে বিক্ষোভস্থলের দিকে রওনা হন।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থল জন্তর মন্তরের কাছে কয়েকশ মানুষ সমবেত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশপাশের কয়েকটি সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ
বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ, বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে অভিজিৎ দীপক বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত কোনো রাজনৈতিক দল নয়; বরং সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর। তাঁর দাবি, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই লাখো শিক্ষার্থী এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে বিস্ফোরক উত্থান
মে মাসের মাঝামাঝি যাত্রা শুরু করার পর থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে।
এই আন্দোলনকে অনেক পর্যবেক্ষক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ শাসনামলে তরুণদের অসন্তোষের অন্যতম বড় অনলাইন প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে উচ্চ যুব বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ তরুণদের হতাশা বাড়িয়েছে।
সরকারের পাল্টা অবস্থান
ভারত সরকার ইতোমধ্যে সংগঠনটির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট দেশে ব্লক করেছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লির আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছেন, সংগঠনটি পাকিস্তান এবং তথাকথিত ‘ভারতবিরোধী’ গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে অভিজিৎ দীপক প্রকাশ্যে যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তাতে দেখা যায় তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের প্রায় ৯৫ শতাংশই ভারতের বাসিন্দা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রবাসী ভারতীয়দের বসবাসকারী কয়েকটি দেশ।
যুবসমাজের হতাশা ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সাফল্য সত্ত্বেও এই আন্দোলনের জনপ্রিয়তা প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাবমূর্তিতে কিছুটা প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। একই সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস সরবরাহ সংকট সাধারণ মানুষের পারিবারিক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত অ-কৃষি কর্মসংস্থান তৈরি করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ১৪ শতাংশ।
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিজিৎ দীপক বলেছেন, এই উদ্যোগ শিগগিরই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















