০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
তেল কি আবার ১০০ ডলারে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরবরাহ ঝুঁকিতে বাড়ছে দাম হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৯২২ ইউরোপে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা, তীব্র দাবদাহে ধস নামছে কৃষি উৎপাদনে ২০ বছর পূর্তিতে নতুন গান নিয়ে ফিরছে বিগব্যাং বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘দ্য টেবিল: ডে অ্যান্ড নাইট’ বিলবোর্ডে নতুন ইতিহাস গড়ল স্ট্রে কিডস, ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’ উঠল ৩৮ নম্বরে ইওনজুন, ডিনো থেকে ইভান—একক সংগীতে নিজেদের সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণে কে-পপ তারকারা রূপকথার গল্পে ১৭ গানের মহাকাব্য, নতুন অ্যালবামে ওয়ানউইয়ের নতুন অধ্যায় চার বছর পর জেওয়াইপি-ঘনিষ্ঠ নতুন কন্যাদল ‘আওয়ার বার্থডে’র অভিষেক গুয়াহাটিতে ফের বন্যা, চিড়িয়াখানার দেয়াল ধসে আতঙ্ক

মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, খাদ্যপণ্যের দামই প্রধান কারণ

দেশে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণেই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

বিবিএস জানিয়েছে, মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) দেশের ৬৪ জেলার ১৫৪টি বাজার থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ, ফলে চলতি বছরের মে মাসের হার তার চেয়েও কিছুটা বেশি।

খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির চিত্র

মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৯.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এপ্রিলে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য বেড়ে ৯.৭১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯.৫৭ শতাংশ।

মে মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.০৫ শতাংশ | The Daily Star

এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪২ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে চাপ আরও বেশি

গ্রামীণ এলাকায় মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল মাসে এবং আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ।

গ্রামীণ খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮.৯৫ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৮.২৩ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৮১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালের মে মাসে গ্রামীণ খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি যথাক্রমে ৮.৩০ শতাংশ ও ৯.৭৫ শতাংশ ছিল।

শহরাঞ্চলেও বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

শহরাঞ্চলে মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.২৫ শতাংশ হয়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ৯.০২ শতাংশ। তবে এটি গত বছরের মে মাসের ৯.৫০ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম।

শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৮১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.২৯ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.২৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

মে মাসে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১১ ছুঁইছুঁই

বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত

মাসভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বাড়লেও ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। জুন ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ সময়ের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৬৩ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ১০.১৩ শতাংশ।

এতে বোঝা যায়, দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার প্রবণতা রয়েছে। তবে মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি এখনও উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।

মজুরি বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চেয়ে পিছিয়ে

মে মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২১ শতাংশ, যা এপ্রিলের ৮.১৬ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। তবে এই হার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির নিচে অবস্থান করছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে কৃষিতে মজুরি বৃদ্ধি হয়েছে ৮.২২ শতাংশ, শিল্পে ৮.১৫ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮.৩৬ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মজুরি বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতির গতিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। ফলে অনেক পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা এখনও চাপে রয়েছে এবং উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেল কি আবার ১০০ ডলারে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরবরাহ ঝুঁকিতে বাড়ছে দাম

মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, খাদ্যপণ্যের দামই প্রধান কারণ

০৭:৪২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দেশে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণেই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

বিবিএস জানিয়েছে, মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) দেশের ৬৪ জেলার ১৫৪টি বাজার থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ, ফলে চলতি বছরের মে মাসের হার তার চেয়েও কিছুটা বেশি।

খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির চিত্র

মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৯.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এপ্রিলে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সামান্য বেড়ে ৯.৭১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৯.৫৭ শতাংশ।

মে মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.০৫ শতাংশ | The Daily Star

এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪২ শতাংশ।

গ্রামাঞ্চলে চাপ আরও বেশি

গ্রামীণ এলাকায় মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল মাসে এবং আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ।

গ্রামীণ খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮.৯৫ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৮.২৩ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৮১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০২৫ সালের মে মাসে গ্রামীণ খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি যথাক্রমে ৮.৩০ শতাংশ ও ৯.৭৫ শতাংশ ছিল।

শহরাঞ্চলেও বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

শহরাঞ্চলে মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.২৫ শতাংশ হয়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ৯.০২ শতাংশ। তবে এটি গত বছরের মে মাসের ৯.৫০ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম।

শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৮১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.২৯ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.২৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

মে মাসে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১১ ছুঁইছুঁই

বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত

মাসভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বাড়লেও ১২ মাসের চলমান গড় মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। জুন ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ সময়ের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৬৩ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ১০.১৩ শতাংশ।

এতে বোঝা যায়, দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার প্রবণতা রয়েছে। তবে মাসভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধি এখনও উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।

মজুরি বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চেয়ে পিছিয়ে

মে মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.২১ শতাংশ, যা এপ্রিলের ৮.১৬ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। তবে এই হার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির নিচে অবস্থান করছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে কৃষিতে মজুরি বৃদ্ধি হয়েছে ৮.২২ শতাংশ, শিল্পে ৮.১৫ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮.৩৬ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মজুরি বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতির গতিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। ফলে অনেক পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা এখনও চাপে রয়েছে এবং উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।