ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টার পর নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় আটকা পড়ে আছেন। এ সময়ের মধ্যে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সমাধান হয়নি।
খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন
শনিবার ভোররাতে ১১ জনকে মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে সেই চেষ্টা প্রতিহত করলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
আটকে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু। তাদের মধ্যে একজন নারী অন্তঃসত্ত্বা এবং একজন শিশু প্রতিবন্ধী। দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তে আটকে থাকার কারণে তাদের মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকট

প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন-রাত পার করছেন তারা। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পুশইনের শিকার শিশু রোজিনা আক্তার জানিয়েছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করার পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসে। এরপর তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়দের মানবিক সহায়তা
সীমান্তসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সীমান্তের জমির আইলে বসে অত্যন্ত কষ্টে সময় পার করছেন। মানবিক বিবেচনায় স্থানীয়রা শুকনো খাবার ও পানি পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই সহায়তা খুবই সীমিত।
দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক, মানসিক চাপ এবং অসুস্থতার বিভিন্ন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বিজিবির অবস্থান
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, যথাযথ আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে তা গ্রহণ করা হবে। তবে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন গ্রহণ করা হবে না।
সীমান্তে আটকে থাকা ১১ জনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















