ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও অঞ্চলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সারাঙ্গানি উপকূলের কাছে সাগরের নিচে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়ে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পরপরই বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভবন ধস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
শক্তিশালী কম্পনের কারণে মিন্দানাওর বিভিন্ন শহর ও জনপদে ভবন, স্কুল এবং অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় সড়ক ও অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশকের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
![]()
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়। জরুরি সেবাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
স্কুল বন্ধের নির্দেশ
ভূমিকম্পটি নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই আঘাত হানে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
একটি বিদ্যালয়ের ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়ার পর শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকৌশলী দল মোতায়েন করে বিভিন্ন স্কুল ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে না।
উদ্ধার ও পরিদর্শন চলছে

সরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর আফটারশক স্বাভাবিক ঘটনা। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপাইনের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে এ ধরনের শক্তিশালী কম্পন নতুন নয়। তবে এবারের ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















