পাবনায় নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার জেরে অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার পর সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকার পদ্মা নদী থেকে হাত বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরদিন ওই শিক্ষার্থীর দাফন সম্পন্ন হলে উত্তেজিত জনতার একটি অংশ অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা
আগুন লাগার একপর্যায়ে বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আশপাশে থাকা অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। আহতদের প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় একজনের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে আরও দুইজন মারা যান। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের সুমন শেখ, নতুনপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং শফি ওরফে সাপু।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন সাতজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুই সহযোগী ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামাণিককেও আটক করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গুমে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের ব্যক্তিগত গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনা
তদন্তে জানা গেছে, নিহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্ত নাঈমের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ২ জুন ওই শিক্ষার্থী নাঈমের বাড়িতে গেলে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাঈম তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে নাঈম তার দুই সহযোগীকে ডেকে আনে। পরে তারা বাজার থেকে বস্তা ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়।
এদিকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই ক্ষোভ থেকেই অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে ওই আগুন থেকেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী হতাহতের ঘটনা নতুন করে শোকের ছায়া ফেলেছে পুরো এলাকায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















