ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বহু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় লাখো মানুষ কার্যত বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের পরিবারের কাছে জীবিত থাকার খবর পৌঁছে দিতে এক ভূমিকম্প-জীবিত ব্যক্তি আশ্রয় নিয়েছেন টেলিভিশনের।
সারাঙ্গানি প্রদেশের বাসিন্দা রেঞ্জ হারনানি ও তার স্ত্রী ভয়াবহ এই ভূমিকম্প থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল বিদেশে কর্মরত শাশুড়িকে জানানো যে তারা এখনও জীবিত আছেন।
যোগাযোগ না থাকায় টেলিভিশনই ভরসা
ভূমিকম্পের পর এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফোন চার্জ করাও সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে একটি টেলিভিশন দলের সদস্যরা এলাকায় পৌঁছালে রেঞ্জ তাদের কাছে অনুরোধ করেন তার একটি বার্তা ধারণ করতে।
ক্যামেরার সামনে তিনি শাশুড়ির উদ্দেশে বলেন, তিনি যেন বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি দেখে অতিরিক্ত ভেঙে না পড়েন। বহু কষ্টে গড়া বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে আছেন—এই বার্তাই তিনি পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।

দুর্গত এলাকায় পুনরুদ্ধার কার্যক্রম
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। অনেক সড়ক এখনও যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে, ফলে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে বেসরকারি খাতও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কিছু এলাকায় মানুষ স্বজনদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারছেন।
তবে অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, নেটওয়ার্ক সুবিধা সীমিত এবং বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ মানুষের ফোনই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেবা থাকলেও তা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রবাসীদের উৎকণ্ঠা
ভূমিকম্পের পর বিদেশে কর্মরত বহু ফিলিপিনো নাগরিক চরম উদ্বেগে রয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত শ্রমিকরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকেই কয়েক দিন ধরে স্বজনদের কোনো খবর পাচ্ছেন না।
গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান
পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা জনগণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, দুর্যোগের সময় ভুল তথ্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ায় এবং উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ক্ষয়ক্ষতি, হতাহত এবং উদ্ধার পরিস্থিতি সম্পর্কে কেবল নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও পুনরুদ্ধার কাজ চলছে। যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বহু মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে স্বজনদের কাছে নিজেদের নিরাপদ থাকার খবর পৌঁছে দেওয়া।
ফিলিপাইনের ভয়াবহ ভূমিকম্পে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। টেলিভিশনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে জীবিত থাকার বার্তা পাঠাচ্ছেন দুর্গত মানুষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















