ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সারাঙ্গানি উপকূলের কাছে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের কয়েক দিন পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যানুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে পৌঁছেছে এবং এখনও ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সারাঙ্গানি এলাকায়, যেখানে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণ কোটাবাতোতে ১৫ জন, দাভাও অক্সিডেন্টালে ১১ জন এবং দাভাও দেল সুরে একজন নিহত হয়েছেন।
নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান
ভূমিকম্পের পর থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে উদ্ধারকারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। সরকারি হিসাবে, দাভাও অক্সিডেন্টাল ও সারাঙ্গানিতে ১৩ জন করে এবং দক্ষিণ কোটাবাতোতে পাঁচজন এখনও নিখোঁজ আছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সব তথ্য এখনও যাচাই-বাছাই চলছে। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
ভূমিধস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ভূমিকম্পের প্রভাবে মিন্দানাও অঞ্চলে অন্তত ৩৭টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৩টি ঘটেছে অঞ্চল-১১ এবং চারটি অঞ্চল-১২-তে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৫ হাজার ৩২৪টি পরিবার। মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৯ জন। দাভাও অঞ্চল, সোকসারজেন এবং মুসলিম মিন্দানাওয়ের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের বহু মানুষ ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মৌলিক সেবার সংকটে পড়েছেন।
জরুরি পুনর্বাসনে তহবিল ব্যবহারের আহ্বান
ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সরকারি তহবিল ব্যবহারের দাবি উঠেছে। দেশটির সিনেটের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট শেরউইন গ্যাচালিয়ান সরকারকে ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেটে থাকা বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ বিলিয়ন পেসো দ্রুত কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে বিলম্ব করা যাবে না। তিনি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা তহবিল, স্থানীয় সরকার সহায়তা তহবিল, কনটিনজেন্ট ফান্ড এবং বিভিন্ন সংস্থার কুইক রেসপন্স ফান্ড ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়া সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন বিভাগের সুরক্ষা কর্মসূচির অধীন বরাদ্দ অর্থ এবং শিক্ষা খাতের দুর্যোগ প্রস্তুতি তহবিলও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।
স্কুল পুনর্নির্মাণে গুরুত্ব
গ্যাচালিয়ান বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা অবকাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু স্কুল ভবন ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ জরুরি।
সরকারি সংস্থাগুলো এখন উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সারাক্ষণ ডেস্ক 

















