০৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
বরিশালে ধর্ষণ মামলায় ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি গ্রেপ্তার, বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্কের অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যাস সংকট: ২০২৮ সালের আগে সিদ্ধান্ত না নিলে অর্থনীতির সামনে কঠিন বাস্তবতা ঢামেকে সপ্তম তলা থেকে লাফ, তরুণীর মৃত্যু অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক ঢাল: গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শক্তিরও থাকতে হবে জবাবদিহি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন দাবার ছক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায়, অর্জনের ভিত্তিতে এগোবে নতুন সহযোগিতা কুমিল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৪৬৭ মেরি গ্রের লড়াই: পরিসংখ্যান ও আইনের সমন্বয়ে কীভাবে বদলানো যায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াই

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের ইচ্ছা ট্রাম্পের, কিন্তু বাড়তে পারে যুদ্ধের ঝুঁকি

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবেন। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ

পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

গভীর পানির কারণে বড় আকারের তেলবাহী জাহাজ সহজেই এখানে ভিড়তে পারে, যা ইরানের মূল ভূখণ্ডের অগভীর উপকূলে সম্ভব নয়। ফলে দ্বীপটি ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন আলোচনা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার পছন্দের বিকল্প হলো খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনার কথা জানাননি, তবু তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। সেই সময় ওয়াশিংটনে দ্বীপটিতে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

US will seize and control Iran's Kharg Island and other key oil facilities,  Trump says | Euronews

দ্রুত দখল সম্ভব, কিন্তু ঝুঁকি বড়

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তুলনামূলকভাবে দ্রুত খার্গ দ্বীপ দখল করতে পারে। তবে দখল নেওয়া মানেই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি নয়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দ্বীপে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে পারেন। আধুনিক নজরদারি ও আক্রমণক্ষম ড্রোনের ব্যবহার তাদের জন্য বাড়তি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, খার্গ দ্বীপ দখল করলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

কৌশলগত সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন

অনেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তাও খার্গ দ্বীপ দখলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, দ্বীপটি ধরে রাখতে অতিরিক্ত সেনা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে পারলেও এটি যুদ্ধের নির্ণায়ক মোড় ঘুরিয়ে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং সংঘাত আরও জটিল ও দীর্ঘ হতে পারে।

অর্থনৈতিক চাপ বনাম সামরিক বাস্তবতা

খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র হওয়ায় এটি দখল বা অকার্যকর করা হলে তেহরানের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ফলে অনেক বিশ্লেষকের মতে, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক লাভের তুলনায় সামরিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের খরচ অনেক বেশি হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার এই নতুন অধ্যায়ে খার্গ দ্বীপ এখন শুধু একটি তেল কেন্দ্র নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও আলোচনায় উঠে এসেছে।

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং বাড়তে পারে নিরাপত্তা ঝুঁকি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ধর্ষণ মামলায় ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি গ্রেপ্তার, বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্কের অভিযোগ

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের ইচ্ছা ট্রাম্পের, কিন্তু বাড়তে পারে যুদ্ধের ঝুঁকি

০৫:০০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবেন। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ বাড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ

পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

গভীর পানির কারণে বড় আকারের তেলবাহী জাহাজ সহজেই এখানে ভিড়তে পারে, যা ইরানের মূল ভূখণ্ডের অগভীর উপকূলে সম্ভব নয়। ফলে দ্বীপটি ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন আলোচনা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার পছন্দের বিকল্প হলো খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনার কথা জানাননি, তবু তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। সেই সময় ওয়াশিংটনে দ্বীপটিতে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

US will seize and control Iran's Kharg Island and other key oil facilities,  Trump says | Euronews

দ্রুত দখল সম্ভব, কিন্তু ঝুঁকি বড়

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তুলনামূলকভাবে দ্রুত খার্গ দ্বীপ দখল করতে পারে। তবে দখল নেওয়া মানেই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি নয়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দ্বীপে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়তে পারেন। আধুনিক নজরদারি ও আক্রমণক্ষম ড্রোনের ব্যবহার তাদের জন্য বাড়তি হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, খার্গ দ্বীপ দখল করলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

কৌশলগত সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন

অনেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তাও খার্গ দ্বীপ দখলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, দ্বীপটি ধরে রাখতে অতিরিক্ত সেনা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে পারলেও এটি যুদ্ধের নির্ণায়ক মোড় ঘুরিয়ে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং সংঘাত আরও জটিল ও দীর্ঘ হতে পারে।

অর্থনৈতিক চাপ বনাম সামরিক বাস্তবতা

খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র হওয়ায় এটি দখল বা অকার্যকর করা হলে তেহরানের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ফলে অনেক বিশ্লেষকের মতে, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক লাভের তুলনায় সামরিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের খরচ অনেক বেশি হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার এই নতুন অধ্যায়ে খার্গ দ্বীপ এখন শুধু একটি তেল কেন্দ্র নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও আলোচনায় উঠে এসেছে।

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং বাড়তে পারে নিরাপত্তা ঝুঁকি।