০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় চুক্তির চেয়ে স্থিতাবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ অ্যালকোহলের বোতলে স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্যই নেই, ‘দায়িত্বশীলভাবে পান’ বার্তাই বেশি চীনা রাষ্ট্রীয় টিভিতে শির প্রশংসায় ইলন মাস্ক, ওয়াশিংটনে অস্বস্তি হোয়াইট হাউসে শি জিনপিং, বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ ফুরানোর আগে বৈঠক বিশ্বে তেল-গ্যাসের নতুন খনি আবিষ্কার ৪০ বছরে সর্বনিম্নে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, একই দিনে ট্রাম্পের ধ্বংসের হুমকি মিয়ানমারে সোয়া লাখ তরুণ জোর করে সেনাবাহিনীতে, জান্তাপ্রধান যোগ দিলেন দলে এআই জোয়ারে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে, এল নিনো ও জ্বালানি বড় ঝুঁকি এডিবির পূর্বাভাসে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নামল ৪ শতাংশে, মূল্যস্ফীতি ৯ ইরান যুদ্ধ ঘিরে হরমুজে জাহাজে হামলা, জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ

ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলা: দুই উইঘুর নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর বহুল আলোচিত ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলার মামলায় দুই উইঘুর নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে থাইল্যান্ডের একটি আদালত। ২০১৫ সালে সংঘটিত ওই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থানে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে এলাকাটি অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় হামলাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। নিহতদের মধ্যে চীন ও হংকংয়ের নাগরিকও ছিলেন।

আদালতের রায়

আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড একাধিক গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে কয়েকটির শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তি শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, মামলায় তাদের উপস্থাপিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

মামলাটি বিচারের পর্যায়ে পৌঁছাতে ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। এই সময়ে তদন্তকারীরা শত শত সাক্ষীর বক্তব্য এবং বিপুল পরিমাণ প্রমাণ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলাটি থাইল্যান্ডের অন্যতম আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।

Thai court sentences two Uyghur men to death for 2015 Bangkok bombing - ABC  News

হামলার পেছনের সম্ভাব্য কারণ

হামলার দায় কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, হামলাটি ছিল থাইল্যান্ড থেকে শতাধিক উইঘুরকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনার প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া।

উইঘুরদের নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনের প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর চীন আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং মানবতাবিরোধী একটি অপরাধ।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা নির্যাতন ও অন্যান্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

এই রায়ের মাধ্যমে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক অধ্যায়ে নতুন মোড় এল। তবে আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-শি বৈঠকে বড় চুক্তির চেয়ে স্থিতাবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ

ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলা: দুই উইঘুর নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

০৭:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর বহুল আলোচিত ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলার মামলায় দুই উইঘুর নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে থাইল্যান্ডের একটি আদালত। ২০১৫ সালে সংঘটিত ওই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থানে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে এলাকাটি অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় হামলাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। নিহতদের মধ্যে চীন ও হংকংয়ের নাগরিকও ছিলেন।

আদালতের রায়

আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড একাধিক গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে কয়েকটির শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তি শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি, মামলায় তাদের উপস্থাপিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

মামলাটি বিচারের পর্যায়ে পৌঁছাতে ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। এই সময়ে তদন্তকারীরা শত শত সাক্ষীর বক্তব্য এবং বিপুল পরিমাণ প্রমাণ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলাটি থাইল্যান্ডের অন্যতম আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।

Thai court sentences two Uyghur men to death for 2015 Bangkok bombing - ABC  News

হামলার পেছনের সম্ভাব্য কারণ

হামলার দায় কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, হামলাটি ছিল থাইল্যান্ড থেকে শতাধিক উইঘুরকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনার প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া।

উইঘুরদের নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

চীনের প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর চীন আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং মানবতাবিরোধী একটি অপরাধ।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা নির্যাতন ও অন্যান্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

এই রায়ের মাধ্যমে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক অধ্যায়ে নতুন মোড় এল। তবে আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না।