ইউক্রেনের সেনাসদস্যদের হত্যা করতে কিশোরী মেয়েদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেনের পুলিশ। দেশটির জাতীয় পুলিশ প্রধানের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বার্তা আদান-প্রদানের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণীদের প্রলোভন দেখিয়ে এমন কর্মকাণ্ডে জড়ানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে অন্তত ছয়টি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার একটি আগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এসব ঘটনায় ইউক্রেনের নাগরিকদের ব্যবহার করা হলেও এর পেছনে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কীভাবে তরুণীদের টার্গেট করা হচ্ছে
পুলিশের দাবি, সহজে অর্থ উপার্জনের লোভ দেখিয়ে তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর তাদের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং দূর থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু তরুণীকে অনলাইন পরিচয়ভিত্তিক ওয়েবসাইটে ইউক্রেনীয় সেনাসদস্যদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বাসা ভাড়া নেওয়ার খরচও সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ।
এছাড়া পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে প্রাণঘাতী হতে পারে—এমন একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের বিষয়েও তদন্তকারীরা তথ্য পেয়েছেন।
গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী
সম্প্রতি ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, এক সেনাসদস্যকে বিষপ্রয়োগের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
পুলিশ বলছে, ওই কিশোরী নিয়মিত এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, যিনি রুশ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তের সময় তার কাছে একটি স্ফটিকজাতীয় পদার্থও পাওয়া গেছে, যা প্রাণঘাতী মাদকজাতীয় উপাদান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের মধ্যে নাশকতার অভিযোগ বাড়ছে

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির এক হাজারের বেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ঘটনার একটি বড় অংশ শত্রুপক্ষের স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে।
জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রে নতুন উদ্বেগ
এদিকে রুশ নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি জরুরি ডিজেল জেনারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা শনাক্ত হয়নি এবং বিকিরণের মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটি বহুবার বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছে, যা পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যুদ্ধের শুরুতেই রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সামনের সারির যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করায় কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















