যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ঝড় ও বজ্রঝড়ের আঘাতে লাখো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে শিকাগোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং আরও প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একাধিক এলাকায় টর্নেডোর খবর
বুধবার উত্তর মিজুরি, আইওয়া, কানসাস এবং ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক টর্নেডোর খবর পাওয়া যায়। ঝড়ের সঙ্গে ছিল তীব্র বাতাস ও শিলাবৃষ্টি। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থা পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের আরও কিছু এলাকায় নতুন করে ঝড় তৈরি হতে পারে।
শিকাগো বিমানবন্দরে ব্যাপক ভোগান্তি

ঝড়ের কারণে শিকাগো অঞ্চলে বিকেল থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। প্রবল বাতাসে গাছ উপড়ে পড়ে এবং কিছু ভবনের ক্ষতি হয়। নিরাপত্তার কারণে শিকাগোর দুটি প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে সব ধরনের উড্ডয়ন ও অবতরণ বন্ধ করে দেয়।
এর ফলে এক হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়। যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। তবে বৃহস্পতিবার সকালে বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে।
বিদ্যুৎহীন লাখো পরিবার
ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।
শুধু ইলিনয়েই দুই লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ হারিয়েছেন। এর মধ্যে কুক কাউন্টিতেই প্রায় দেড় লাখ মানুষ বিদ্যুৎ ছাড়া ছিলেন। মিশিগানেও হাজার হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়ে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ঝড়ে বহু বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
ভবন ও কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি

শিকাগো এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ছাদের অংশ উড়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। উইসকনসিনে বেশ কয়েকটি খামারঘর ধসে পড়েছে। উত্তর মিজুরির গ্রামীণ এলাকায় কিছু স্থাপনা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও মেরামত কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ঝড়ের পর এবার তাপপ্রবাহের শঙ্কা
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঝড়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডা থেকে আসা শীতল বায়ু এবং দক্ষিণাঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে এই অস্থির আবহাওয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















