মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ সামুদ্রিক অঞ্চলে একের পর এক জাহাজে হামলার ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু এবং ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একাধিক জাহাজে হামলার পর নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারত বলেছে, বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে তলব করে তাদের উদ্বেগ ও আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুতে শোক
সাম্প্রতিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। তারা একটি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত ছিলেন। প্রথমদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে চলমান সংঘাতের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করলেও নতুন তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
![]()
ইরানও হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আক্রান্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল এবং এগুলো ভারতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত ছিল।
ভারতের জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে সংযোগ
সামুদ্রিক পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলোর অনেকগুলোর সঙ্গে ভারতীয় মালিকানা, ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। কিছু জাহাজ ভারতীয় বন্দরগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করত এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
একটি জাহাজ ইরানি তেল বহন করে ভারতের পশ্চিম উপকূলের বন্দরে যাওয়ার পথে ছিল বলে জানা গেছে। অন্য একটি জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া আরেকটি জাহাজের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বও ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছিল বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
‘সুবিধাজনক পতাকা’ ব্যবস্থার জটিলতা
বিশ্বের অনেক জাহাজ এমন দেশগুলোর পতাকা ব্যবহার করে নিবন্ধিত হয় যেখানে নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে শিথিল। সামুদ্রিক খাতে এটি ‘সুবিধাজনক পতাকা’ নামে পরিচিত। ফলে প্রকৃত মালিকানা, ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া ও ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত অনেক জাহাজ বারবার নাম, পতাকা ও মালিকানা পরিবর্তন করে থাকে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও প্রায়ই ওঠে।
ট্রাম্পের পাল্টা অভিযোগ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি ছেড়ে যাওয়া ভারত-সংযুক্ত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তিনি এসব হামলাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেও ভারত মূলত বেসামরিক জাহাজের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেই সামনে আনছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ভারতীয় জ্বালানি সরবরাহ, নৌবাণিজ্য এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















