উত্তরপ্রদেশে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে দেখা গেল এক বিরল চিত্র। মাত্র ৩২ হাজার ৬৭৯টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২৮ লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী। এই বিপুল সংখ্যক আবেদন শুধু একটি চাকরির প্রতিযোগিতাই নয়, বরং রাজ্যের কর্মসংস্থান সংকট, তরুণদের অনিশ্চয়তা এবং সরকারি চাকরির প্রতি প্রবল আকর্ষণের বাস্তবতাও সামনে নিয়ে এসেছে।
চাকরির আশায় দীর্ঘ যাত্রা
রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী রাজধানী লখনউয়ে ছুটে আসেন পরীক্ষায় অংশ নিতে। অনেকেই গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাদের কাছে এই চাকরি কেবল মাসিক বেতনের বিষয় নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার একটি সুযোগ।
কৃষিশ্রমিক পরিবারের সন্তান থেকে শুরু করে প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী—অনেকেই বিশ্বাস করেন, সরকারি চাকরি তাদের জীবনে স্থায়িত্ব ও সম্মান এনে দিতে পারে।
ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই
চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন প্রকৌশল, জীবপ্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে স্নাতকরাও। তাদের অনেকের অভিযোগ, বেসরকারি খাতে প্রাপ্ত চাকরির বেতন খুবই কম এবং চাকরির নিরাপত্তাও নেই।
অনেক তরুণ জানান, মাসে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার চাকরি নিয়ে বড় শহরে টিকে থাকা কঠিন। তুলনামূলকভাবে পুলিশ কনস্টেবলের চাকরিতে বেতন, ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা, পেনশন-সদৃশ সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা থাকায় তারা সরকারি চাকরির দিকেই ঝুঁকছেন।
পরীক্ষাকেন্দ্রে জনসমুদ্র
পরীক্ষা চলাকালে লখনউয়ের রেলস্টেশন ও গণপরিবহনে ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। বহু পরীক্ষার্থী ট্রেনে দাঁড়িয়ে বা অত্যন্ত কষ্টকর পরিস্থিতিতে যাতায়াত করেন। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বাসভাড়ায় ছাড় দেওয়া হলেও কয়েক দিন ধরে পরিবহন ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়।
মোট ২১ লাখ ৯২ হাজারের বেশি প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পর শারীরিক মান যাচাই এবং দক্ষতা পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করতে হবে।
কেন এত আকর্ষণ সরকারি চাকরিতে?
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ সমাজে এখনও সরকারি চাকরিকে সবচেয়ে সম্মানজনক ও নিরাপদ পেশা হিসেবে দেখা হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সরকারি চাকরি অনেকের কাছে আজীবন নিরাপত্তার প্রতীক।
কনস্টেবল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেও পরবর্তীতে পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চপদে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে এই চাকরি দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের সম্ভাবনাও তৈরি করে।
কর্মসংস্থান সংকটের প্রতিচ্ছবি
বিশ্লেষকদের মতে, একটি কনস্টেবল পদের জন্য ৮০ জনের বেশি প্রার্থীর প্রতিযোগিতা রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতির গভীর সংকটকে নির্দেশ করে। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের নিম্নস্তরের চাকরির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হওয়া দেখায় যে তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।
অর্থনীতি ও সমাজ বিশ্লেষকদের অভিমত, উত্তরপ্রদেশে শিল্পায়ন ও উৎপাদন খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ছাড়া এই সংকট কাটানো কঠিন হবে। বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও শিক্ষিত যুবকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উত্তরপ্রদেশে মাত্র ৩২ হাজার কনস্টেবল পদের জন্য ২৮ লাখের বেশি আবেদন। সরকারি চাকরির আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সংকটের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে নতুন করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















