০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ৮ ছোট দামে বৈদ্যুতিক গাড়ির নতুন চমক, ২০২৭ সালে আসছে নিসান পিক্সো লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘স্টার ওয়ার্স’-এর মতো জাদুময় জাদুঘর, লুকাস মিউজিয়ামের স্থাপত্যে মুগ্ধতা ও বিতর্ক কুকুরের শরীরে পিসু নাকি টিক? পার্থক্য জানুন, রক্ষা করুন প্রিয় পোষ্যকে কোহাটের কাছে আফগান তালেবানের পাঠানো দুই ড্রোন ভূপাতিত: পাকিস্তান প্রাচীন দাবানল থেকেই কি মৃৎপাত্র তৈরির ধারণা? আগুন ও ভূমিধসের নতুন রহস্য ঘোলা পানিতে মাছের আচরণে চমক, খাবার খুঁজতে আরও কাছাকাছি হয় দল প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটা জরুরি নয়, গতি বাড়ালেও মিলতে পারে বড় উপকার রিফর্ম ইউকে বলছে ব্রিটেন ভেঙে পড়েছে, কিন্তু বার্মিংহাম বলছে অন্য গল্প উচ্চ খরচ, কম উচ্চাকাঙ্ক্ষা—রপ্তানি বাঁচাতে পাকিস্তানের সামনে দুই দিকের লড়াই

রাশিয়ার রসদ সরবরাহে ড্রোনের আঘাত, যুদ্ধের নতুন মোড়ে ইউক্রেন

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে নতুন এক কৌশল বড় পরিবর্তন এনে দিচ্ছে। সামনের সারির লড়াইয়ের বাইরে এবার রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এসব হামলার ফলে জ্বালানি সংকট, সেনা বদলি কার্যক্রমে বাধা এবং সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু এখন রসদ সরবরাহ

যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেন মূলত সম্মুখসার ও দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দিকে মনোযোগ দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা মধ্যবর্তী এলাকায় থাকা সড়ক ও রেলপথকে লক্ষ্য করছে, যেগুলো দিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছায়। ইউক্রেন এই কৌশলকে “রসদ অবরোধ” হিসেবে দেখছে।

উন্নত ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাসমৃদ্ধ ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার ট্রাক ও ট্রেনে আঘাত হানছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ড্রোন উৎপাদনে বড় অগ্রগতি

ইউক্রেন বর্তমানে নিজস্ব কারখানায় বিপুল সংখ্যক ড্রোন তৈরি করছে। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, তারা প্রতি মাসে পাঁচ হাজারেরও বেশি মধ্য ও দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। গত কয়েক মাসে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যুদ্ধকে নতুন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কারণ এখন শুধু সম্মুখসার নয়, বরং পুরো যুদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থাই আক্রমণের আওতায় চলে এসেছে।

The Impact of Drones on the Battlefield: Lessons of the Russia-Ukraine War  from a French Perspective | Hudson Institute

দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে চাপ

বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে ইউক্রেনের এই কৌশল বেশি কার্যকর হচ্ছে। ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগ বজায় রাখতে যে সড়কপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। ইউক্রেনের দাবি, তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটের ওপর আকাশপথে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, যা রাশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এছাড়া বিশেষভাবে পরিবর্তিত ড্রোন ব্যবহার করে সরবরাহ বহনকারী যানবাহন ও ট্রেনকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। ফলে রাশিয়াকে আরও বিস্তৃত এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে হচ্ছে।

আশার পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে

তবে ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। রাশিয়া এখনও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই গতি ধরে রাখতে হলে অস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউক্রেন ইতোমধ্যে ড্রোন ও নতুন অস্ত্র উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তাও বেড়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন কৌশল আগামী মাসগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাতে ড্রোন এখন শুধু একটি অস্ত্র নয়, বরং যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ৮

রাশিয়ার রসদ সরবরাহে ড্রোনের আঘাত, যুদ্ধের নতুন মোড়ে ইউক্রেন

০৭:০৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে নতুন এক কৌশল বড় পরিবর্তন এনে দিচ্ছে। সামনের সারির লড়াইয়ের বাইরে এবার রাশিয়ার রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এসব হামলার ফলে জ্বালানি সংকট, সেনা বদলি কার্যক্রমে বাধা এবং সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু এখন রসদ সরবরাহ

যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেন মূলত সম্মুখসার ও দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দিকে মনোযোগ দিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা মধ্যবর্তী এলাকায় থাকা সড়ক ও রেলপথকে লক্ষ্য করছে, যেগুলো দিয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছায়। ইউক্রেন এই কৌশলকে “রসদ অবরোধ” হিসেবে দেখছে।

উন্নত ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাসমৃদ্ধ ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার ট্রাক ও ট্রেনে আঘাত হানছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ড্রোন উৎপাদনে বড় অগ্রগতি

ইউক্রেন বর্তমানে নিজস্ব কারখানায় বিপুল সংখ্যক ড্রোন তৈরি করছে। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, তারা প্রতি মাসে পাঁচ হাজারেরও বেশি মধ্য ও দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। গত কয়েক মাসে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যুদ্ধকে নতুন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কারণ এখন শুধু সম্মুখসার নয়, বরং পুরো যুদ্ধ পরিচালনা ব্যবস্থাই আক্রমণের আওতায় চলে এসেছে।

The Impact of Drones on the Battlefield: Lessons of the Russia-Ukraine War  from a French Perspective | Hudson Institute

দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে চাপ

বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে ইউক্রেনের এই কৌশল বেশি কার্যকর হচ্ছে। ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগ বজায় রাখতে যে সড়কপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। ইউক্রেনের দাবি, তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটের ওপর আকাশপথে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, যা রাশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এছাড়া বিশেষভাবে পরিবর্তিত ড্রোন ব্যবহার করে সরবরাহ বহনকারী যানবাহন ও ট্রেনকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। ফলে রাশিয়াকে আরও বিস্তৃত এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে হচ্ছে।

আশার পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে

তবে ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। রাশিয়া এখনও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই গতি ধরে রাখতে হলে অস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউক্রেন ইতোমধ্যে ড্রোন ও নতুন অস্ত্র উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তাও বেড়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন কৌশল আগামী মাসগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাতে ড্রোন এখন শুধু একটি অস্ত্র নয়, বরং যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।