১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
চীনের চাপেও পিছু হটবে না নেদারল্যান্ডস, ইন্দো-প্যাসিফিকে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা ডিজিটাল চুক্তির যুগে ট্রাম্প-ইরান সমঝোতা: শান্তির পথে অগ্রগতি নাকি অনিশ্চয়তার নতুন ফাঁদ? জন্মেছেন এমপি সাহেব ১৯৮১ সালে, অথচ পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ! নিরীক্ষার খাঁচায় বিশ্ববিদ্যালয়: উৎকর্ষের নামে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার সংকট ইরানের তেল বাজারে ফেরার ইঙ্গিতে কমল তেলের দাম, নজর এখন নতুন ফেড প্রধানের দিকে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন আগেই নিশ্চিত মেসির হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ক্লোসের রেকর্ড স্পর্শ, আর্জেন্টিনার স্মরণীয় জয় নতুন বাস্তবতা: তেলের যুগ কি চাহিদার সীমায় পৌঁছে গেছে? ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ

ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন আগেই নিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরানে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে প্রস্তাবিত এই তহবিলের লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া। তবে চূড়ান্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত তহবিলটি কার্যকর হবে না।

যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতার অংশ

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আওতায় অবরোধ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ও রয়েছে।

প্রস্তাবিত তহবিলটি কোনো ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি বা পুনর্গঠন সহায়তা প্রকল্প নয়। এতে কোনো সরকারি অর্থ বা অনুদান থাকবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের মাধ্যমে তহবিল গড়ে তোলা হবে।

কোথায় বিনিয়োগ হবে

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদনশিল্প ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিছু প্রতিষ্ঠানও অর্থায়নের অঙ্গীকার করেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছেন, তেহরান প্রথমে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপরই বিকল্প হিসেবে এই বিনিয়োগ তহবিলের ধারণা সামনে আসে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ঋণ নিশ্চয়তা, ক্রেডিট লাইন চালু কিংবা সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে অবদান রাখতে পারে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শিল্প ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে এসব অর্থ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

ইরানের সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ বাস্তবতা

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও গত চার দশকে ইরান উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন রেখেছে।

তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেল মজুতের অধিকারী ইরান। ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশটিতে পেট্রোকেমিক্যাল, খনিজ, কৃষি ও পর্যটন খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

চূড়ান্ত চুক্তির অপেক্ষা

সূত্র জানিয়েছে, এই তহবিলের বিষয়টি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। দুটি আলাদা আর্থিক প্রক্রিয়া হিসেবে এগুলো পরিচালিত হবে।

শুক্রবার সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্প পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলবে। তবে তহবিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন ও কার্যকর হবে কেবল তখনই, যখন উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ ও সন্তোষজনক চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাবে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির শর্ত পূরণ করলে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পেতে পারে।

ইরানের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পুরো উদ্যোগের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক আলোচনা এবং চূড়ান্ত চুক্তির ওপর।

#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #ইরানচুক্তি #মধ্যপ্রাচ্য #বিনিয়োগ #অর্থনীতি #হরমুজপ্রণালি #জ্বালানি #বিশ্বঅর্থনীতি #সারাক্ষণ

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের চাপেও পিছু হটবে না নেদারল্যান্ডস, ইন্দো-প্যাসিফিকে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল, অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন আগেই নিশ্চিত

০৯:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরানে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে প্রস্তাবিত এই তহবিলের লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া। তবে চূড়ান্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত তহবিলটি কার্যকর হবে না।

যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতার অংশ

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর আওতায় অবরোধ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ও রয়েছে।

প্রস্তাবিত তহবিলটি কোনো ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি বা পুনর্গঠন সহায়তা প্রকল্প নয়। এতে কোনো সরকারি অর্থ বা অনুদান থাকবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের মাধ্যমে তহবিল গড়ে তোলা হবে।

কোথায় বিনিয়োগ হবে

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদনশিল্প ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিছু প্রতিষ্ঠানও অর্থায়নের অঙ্গীকার করেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছেন, তেহরান প্রথমে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপরই বিকল্প হিসেবে এই বিনিয়োগ তহবিলের ধারণা সামনে আসে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ঋণ নিশ্চয়তা, ক্রেডিট লাইন চালু কিংবা সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে অবদান রাখতে পারে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন শিল্প ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে এসব অর্থ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

ইরানের সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ বাস্তবতা

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও গত চার দশকে ইরান উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারেনি। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন রেখেছে।

তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেল মজুতের অধিকারী ইরান। ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশটিতে পেট্রোকেমিক্যাল, খনিজ, কৃষি ও পর্যটন খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

চূড়ান্ত চুক্তির অপেক্ষা

সূত্র জানিয়েছে, এই তহবিলের বিষয়টি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। দুটি আলাদা আর্থিক প্রক্রিয়া হিসেবে এগুলো পরিচালিত হবে।

শুক্রবার সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্প পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলবে। তবে তহবিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন ও কার্যকর হবে কেবল তখনই, যখন উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ ও সন্তোষজনক চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাবে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির শর্ত পূরণ করলে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পেতে পারে।

ইরানের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পুরো উদ্যোগের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক আলোচনা এবং চূড়ান্ত চুক্তির ওপর।

#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #ইরানচুক্তি #মধ্যপ্রাচ্য #বিনিয়োগ #অর্থনীতি #হরমুজপ্রণালি #জ্বালানি #বিশ্বঅর্থনীতি #সারাক্ষণ