বিশ্বখ্যাত মেকআপ শিল্পী গুচি ওয়েস্টম্যানের কাছে নিখুঁত ফাউন্ডেশন মানে শুধু ত্বকের দাগ বা রং ঢেকে দেওয়া নয়; বরং এমন একটি আবরণ তৈরি করা, যা ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আড়াল না করে আরও মসৃণ ও সতেজ দেখাবে। সেই ভাবনা থেকেই দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও একাধিক ফর্মুলা বদলের পর বাজারে এসেছে ওয়েস্টম্যান আটেলিয়ের প্রথম তরল ফাউন্ডেশন—সুপ্রেম বায়ো-কমপ্লেক্স লিকুইড ফাউন্ডেশন।
ওয়েস্টম্যানের ভাষায়, তিনি এমন একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করতে চেয়েছেন, যা তার দেখা সবচেয়ে সুন্দর ফাউন্ডেশন হবে। আগের একটি ফর্মুলা তার প্রত্যাশা পূরণ না করায় সেটি বাজারে আনেননি। পরে নতুন প্রযুক্তি, উপাদান ও গবেষণাগারের সহায়তায় তিনি পছন্দের ফর্মুলা তৈরি করেন।
তিন বছরের অপেক্ষার পর নতুন ফর্মুলা
ওয়েস্টম্যান আটেলিয়ের নতুন এই ফাউন্ডেশন তৈরির পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এমন উপাদান খুঁজে পাওয়া, যা ত্বকে মসৃণ অনুভূতি দেবে কিন্তু প্রচলিত অনেক ফাউন্ডেশনের মতো ভারী বা কৃত্রিম আবরণ তৈরি করবে না।
ব্র্যান্ডটির নিজস্ব কঠোর উপাদান নীতির কারণে সিলিকন, ট্যালক, পিইজি ও কৃত্রিম সুগন্ধির মতো কিছু উপাদান এড়িয়ে চলা হয়েছে। এর পরিবর্তে ফর্মুলায় ব্যবহার করা হয়েছে নারিকেলজাত একটি মসৃণ উপাদান এবং অ্যামিনো অ্যাসিডভিত্তিক সূক্ষ্ম গুঁড়া। এগুলো ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং রোমকূপকে তুলনামূলক মসৃণ দেখাতে সাহায্য করে, একই সঙ্গে শুষ্ক অংশে জমাট বাঁধার ঝুঁকিও কমায়।

মসৃণ ত্বকের ‘ব্লার’ প্রভাব
২০২৬ সালে প্রসাধনী জগতে ‘ব্লারিং’ বা ত্বকের অসম্পূর্ণতা কম দৃশ্যমান করার প্রবণতা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ওয়েস্টম্যানের কাছে এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। তার মেকআপ দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশই হলো ত্বকের গঠনকে স্বাভাবিক রেখে আলো ও ছায়ার ব্যবহারে ত্বককে আরও মসৃণ দেখানো।
নতুন ফাউন্ডেশনের অ্যামিনো অ্যাসিডভিত্তিক গুঁড়া ত্বকের রোমকূপকে দৃশ্যত মসৃণ করে এবং আলোকে এমনভাবে ছড়িয়ে দেয়, যাতে ত্বকে এক ধরনের ফিল্টারের মতো আবহ তৈরি হয়। তবে এর লক্ষ্য ত্বককে সম্পূর্ণ কৃত্রিম দেখানো নয়। বরং ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য যেন দৃশ্যমান থাকে, সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিরামের মতো হালকা অনুভূতি
ফাউন্ডেশনটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর হালকা, সিরামের মতো গঠন। অল্প পরিমাণ ব্যবহার করেই মুখে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। ওয়েস্টম্যানের পরামর্শ অনুযায়ী, এক ফোঁটা ফাউন্ডেশন হাতের পেছনে নিয়ে আঙুল বা ব্রাশের সাহায্যে মুখের মাঝখান থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে দিতে হয়।
এর বিশেষ রঞ্জক উপাদান ত্বকের সঙ্গে সহজে মিশে গিয়ে রঙকে তুলনামূলক স্বাভাবিক করে তোলে। ফলে অতিরিক্ত ভারী মেকআপের অনুভূতি ছাড়াই সমান ও মসৃণ আবরণ পাওয়া যায়।
মেকআপের সঙ্গে ত্বকের যত্ন
এই ফাউন্ডেশনকে শুধু প্রসাধনী হিসেবে রাখতে চাননি ওয়েস্টম্যান। ফর্মুলায় ত্বকের যত্নের উপাদানও যুক্ত করা হয়েছে। স্পেনের একটি জৈবপ্রযুক্তি গবেষণাগারের সঙ্গে কাজ করে এতে পেপটাইডভিত্তিক জটিল উপাদান যুক্ত করা হয়েছে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা, কোলাজেন উৎপাদন ও ত্বকের নবায়ন প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করার জন্য তৈরি।
এতে রয়েছে ভিটামিন বি৩, যা ত্বককে উজ্জ্বল দেখাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি সূর্যমুখী, রোজমেরি ও সামুদ্রিক শৈবালজাত উদ্ভিদ নির্যাস ত্বকের সুরক্ষাবেষ্টনীকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
ফর্মুলায় পেপটাইড উপাদানকে এক্সোসোম প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সক্রিয় উপাদানগুলোকে ত্বকের প্রয়োজনীয় স্তরে পৌঁছাতে সহায়তা করা।
৩০টি রঙে পাওয়া যাবে

সুপ্রেম বায়ো-কমপ্লেক্স লিকুইড ফাউন্ডেশনটি ৩০টি রঙে বাজারে এসেছে। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক ও মসৃণ আবরণ। ত্বকের রোমকূপকে কম দৃশ্যমান দেখানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত শুষ্কতা তৈরি না করে স্বাভাবিক ত্বকের মতো চেহারা ধরে রাখাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
ওয়েস্টম্যান মনে করেন, একটি ভালো ফাউন্ডেশনের কাজ কেবল মুখের ওপর সুন্দর একটি স্তর তৈরি করা নয়। মানুষ তার ত্বকে কী ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়াও আধুনিক সৌন্দর্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই পণ্য নিয়ে ওয়েস্টম্যানের সন্তুষ্টিও স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, এটি তার তৈরি সবচেয়ে গর্বের পণ্যগুলোর একটি। মেকআপের সৌন্দর্য, ত্বকের যত্ন, হালকা অনুভূতি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন—সবকিছুকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে এই নতুন ফাউন্ডেশনে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















