ইরানের তেল আবার বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার প্রত্যাশায় সরকারি বন্ডের ফলনও নিচের দিকে নেমেছে। তবে শেয়ারবাজার ও মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের নড়াচড়া দেখা যায়নি। বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে।
তেলের দামে বড় পতন
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে যায়। মার্চে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর এটাই ছিল সর্বনিম্ন পর্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের অংশ হিসেবে ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন ধরে নিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
হরমুজ সংকটের প্রভাব
গত তিন মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় ইরানি তেল বাজারে ফিরলে সরবরাহ সংকট কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন্ড বাজারে স্বস্তি
তেলের দাম কমার খবরে সরকারি বন্ডের ফলনও কমেছে। জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ফলন ২.৬৩ শতাংশে নেমে এসেছে। একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার বাজারেও। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, জ্বালানি ব্যয় কমলে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
শেয়ারবাজারে মিশ্র চিত্র
ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এতে নাসডাক সূচক ১.১৫ শতাংশ কমেছে। তবে আর্থিক ও শিল্প খাতের শেয়ারের উত্থানে ডাও জোন্স নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এশিয়ার বাজারে পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত। জাপানের নিক্কেই সূচক কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে সামান্য পতন দেখা গেছে। হংকং ও সাংহাইয়ের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।
নতুন ফেড প্রধানকে ঘিরে অপেক্ষা
বিনিয়োগকারীদের বড় আগ্রহ এখন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের প্রথম বৈঠক নিয়ে। বাজারে ধারণা রয়েছে, তিনি সুদের হার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতে পারেন। মার্চে ফেডের বেশিরভাগ নীতিনির্ধারক চলতি বছরে সুদের হার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে নতুন চেয়ারম্যান বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ওয়ারশ যদি ধৈর্যশীল নীতির পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে তা বাজারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হবে। অন্যদিকে, তিনি যদি সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার প্রতি সমর্থন দেখান, তাহলে বিনিয়োগকারীরা সেটিকে কঠোর বা ‘হকিশ’ অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
ইরানি তেল সরবরাহ, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নীতির সমন্বয়ই এখন বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইরানি তেল সরবরাহের সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। একই সময়ে নতুন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের প্রথম বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে বিনিয়োগকারীরা।
#তেলের_দাম #ইরান #হরমুজ_প্রণালি #ফেডারেল_রিজার্ভ #কেভিন_ওয়ারশ #বিশ্বঅর্থনীতি #বৈশ্বিকবাজার #ব্রেন্ট_ক্রুড #শেয়ারবাজার #সারাক্ষণ


















