১২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে ইরানের নাটকীয় শুরু, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উত্থান, বাড়ছে অবিশ্বাস ও বিভাজন তালেবান শাসনের পাঁচ বছর: আফগানদের প্রশ্ন, আর কত অপেক্ষা করবে বিশ্ব? হরমুজ সংকটের ধাক্কায় ঋণ ফাঁদে উন্নয়নশীল দেশ, বাড়ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এনএফএলে হারিয়ে গেলেও সংগ্রাহকদের কাছে অমর ইউএসএফএল, পুরোনো ট্রেডিং কার্ডে বাড়ছে আগ্রহ ইরান টিকে থাকল, বদলে যাচ্ছে উপসাগরীয় শক্তির সমীকরণ শহরে ঢুকে পড়ছে ভালুক, বাড়ছে আতঙ্ক: মানুষের ভয় হারাচ্ছে বন্য প্রাণী হরমুজ প্রণালি খুলছে, কিন্তু তেলবাহী জাহাজে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা মেসির হ্যাটট্রিক, মেসির রেকর্ড, মেসির চোখে জল চীনের যন্ত্রমানব দাপট: কেন এখন রোবট তৈরি করা প্রায় অসম্ভব চীনকে ছাড়া

চীনের চাপেও পিছু হটবে না নেদারল্যান্ডস, ইন্দো-প্যাসিফিকে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

দক্ষিণ চীন সাগরে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ নৌ-ঘটনার পরও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে নৌ-মোতায়েন অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও ডাচ যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে নিয়মিত টহল দেবে।

দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনার পরও অনড় অবস্থান

সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকায় একটি ডাচ যুদ্ধজাহাজকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই সময় জাহাজটি ইলেকট্রনিক বাধার মুখে পড়লেও নির্ধারিত মিশন চালিয়ে যায়। পরে এটি তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রম করে জাপানে পৌঁছে।

ডাচ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এমন ঘটনা তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করবে না। তার ভাষায়, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতির ভিত্তিতেই নেদারল্যান্ডস এই অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনীতি এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Chinese military harassed Dutch warship enforcing UN sanctions on North  Korea, Netherlands says | CNN

ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা এখন পরস্পরনির্ভর

নেদারল্যান্ডসের মতে, ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ কারণে শুধু প্রতীকী উপস্থিতি নয়, বাস্তব সহযোগিতা ও সামরিক কূটনীতির অংশ হিসেবেই এই মোতায়েন পরিচালিত হচ্ছে।

ডাচ কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ অঞ্চলে কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব সরাসরি ইউরোপেও পড়বে। তাই মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

চীনকে একই সঙ্গে অংশীদার ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নেদারল্যান্ডস

চীন সম্পর্কে ডাচ সরকারের অবস্থান তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে দেশটি চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে, অন্যদিকে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ও কৌশলগত উদ্বেগও রয়েছে।

ডাচ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, চীন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও সম্পর্ক সবসময় সহজ নয়। তবে মতভেদ থাকলেও সংলাপের পথ খোলা রাখতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস।

The Dutch frigate HNLMS De Ruyter arrived in Tokyo on Monday for a three-day port call.

জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার

জাপান সফরের সময় ডাচ প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যৌথ সামরিক মহড়া বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে নৌ ও প্রতিরক্ষা শিল্প খাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

জাপানে অবস্থানকালে ডাচ যুদ্ধজাহাজটি দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে জাহাজটি বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে যাত্রা করবে।

দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির বার্তা

নেদারল্যান্ডস মনে করছে, ইন্দো-প্যাসিফিকে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখা এখন শুধু নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারেরও অংশ। তাই সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দেশটি ভবিষ্যতেও নিয়মিত নৌ-মোতায়েন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে ইরানের নাটকীয় শুরু, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র

চীনের চাপেও পিছু হটবে না নেদারল্যান্ডস, ইন্দো-প্যাসিফিকে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

১০:৫১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

দক্ষিণ চীন সাগরে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ নৌ-ঘটনার পরও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে নৌ-মোতায়েন অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও ডাচ যুদ্ধজাহাজ এই অঞ্চলে নিয়মিত টহল দেবে।

দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনার পরও অনড় অবস্থান

সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকায় একটি ডাচ যুদ্ধজাহাজকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই সময় জাহাজটি ইলেকট্রনিক বাধার মুখে পড়লেও নির্ধারিত মিশন চালিয়ে যায়। পরে এটি তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রম করে জাপানে পৌঁছে।

ডাচ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এমন ঘটনা তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করবে না। তার ভাষায়, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতির ভিত্তিতেই নেদারল্যান্ডস এই অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনীতি এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Chinese military harassed Dutch warship enforcing UN sanctions on North  Korea, Netherlands says | CNN

ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা এখন পরস্পরনির্ভর

নেদারল্যান্ডসের মতে, ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ কারণে শুধু প্রতীকী উপস্থিতি নয়, বাস্তব সহযোগিতা ও সামরিক কূটনীতির অংশ হিসেবেই এই মোতায়েন পরিচালিত হচ্ছে।

ডাচ কর্তৃপক্ষ মনে করে, এ অঞ্চলে কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব সরাসরি ইউরোপেও পড়বে। তাই মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

চীনকে একই সঙ্গে অংশীদার ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নেদারল্যান্ডস

চীন সম্পর্কে ডাচ সরকারের অবস্থান তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে দেশটি চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে, অন্যদিকে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ও কৌশলগত উদ্বেগও রয়েছে।

ডাচ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, চীন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও সম্পর্ক সবসময় সহজ নয়। তবে মতভেদ থাকলেও সংলাপের পথ খোলা রাখতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস।

The Dutch frigate HNLMS De Ruyter arrived in Tokyo on Monday for a three-day port call.

জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার

জাপান সফরের সময় ডাচ প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যৌথ সামরিক মহড়া বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে নৌ ও প্রতিরক্ষা শিল্প খাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

জাপানে অবস্থানকালে ডাচ যুদ্ধজাহাজটি দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে জাহাজটি বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে যাত্রা করবে।

দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির বার্তা

নেদারল্যান্ডস মনে করছে, ইন্দো-প্যাসিফিকে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখা এখন শুধু নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারেরও অংশ। তাই সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দেশটি ভবিষ্যতেও নিয়মিত নৌ-মোতায়েন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।