০১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
অসলোর শিশু শিল্প জাদুঘর বন্ধের শঙ্কা, হারিয়ে যেতে পারে এক লাখের বেশি শিশুশিল্পের ভান্ডার মৌসুমী বৃষ্টির দেরিতে চাপে মুম্বাই, জলাধারে পানি মাত্র ১০ শতাংশ; কড়া বিধিনিষেধ জারি ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দিপককে চড় মারা দুই যুবক মুক্ত, মালা পরিয়ে সংবর্ধনায় নতুন বিতর্ক নাবাতিয়েহে ইসরায়েলি বিমান হামলা, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে নতুন উত্তেজনা নীট পুনঃপরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আইনি লড়াই, দিল্লি হাইকোর্টে গেল প্ল্যাটফর্ম দেশের চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকবে মৃদু তাপপ্রবাহ আবাসিক হলের ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর জিয়ানিসের নতুন গন্তব্য কি মায়ামি? বাকস ছাড়ার জোর গুঞ্জনে সরগরম এনবিএ বিশ্বকাপে ইরানের নাটকীয় শুরু, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উত্থান, বাড়ছে অবিশ্বাস ও বিভাজন

ইরান টিকে থাকল, বদলে যাচ্ছে উপসাগরীয় শক্তির সমীকরণ

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। এতে আপাতত যুদ্ধবিরতির আশা দেখা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং যুদ্ধ শেষে ইরান রাজনৈতিকভাবে আরও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, আর উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আস্থা কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় বার্তা হলো—তীব্র সামরিক চাপ ও ধারাবাহিক হামলার মুখেও ইরানকে পরাজিত করা যায়নি। দেশটি এখনও আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও তার প্রভাব বজায় রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পথে নতুন সমঝোতা

শুক্রবার স্বাক্ষর হওয়ার কথা থাকা সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা করবে। আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং সংশ্লিষ্ট বিরোধগুলো।

Gulf recalibrates as Iran emerges intact from war | Shareable Stories |  channel3000.com

চুক্তিটি যুদ্ধের বর্তমান অধ্যায়ের ইতি টানতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংকট বা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমাধান করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

ওয়াশিংটনের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ

এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। সামরিক অভিযান পরিচালনা করেও ওয়াশিংটন তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেনি। ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই চুক্তি এক অর্থে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করেছে।

ইরানের জন্য ‘বেঁচে থাকার জয়’

অন্যদিকে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হলো রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা। ব্যাপক হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির মুখেও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং আলোচনার টেবিলে বসার মতো প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থানও তারা ধরে রাখতে পেরেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর ইরান দুর্বল হলেও পরাজিত হয়নি। এ কারণেই দেশটি এখন নিজেকে আঞ্চলিক বাস্তবতার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে তুলে ধরতে পারছে।

The Gulf that emerges from the Iran war will be very different - Atlantic  Council

উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন ভাবনা

যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাদের। এই দেশগুলো মনে করছে, তাদের নিরাপত্তা ঘিরে নেওয়া বড় সিদ্ধান্তগুলোতে তারা কার্যত দর্শকের ভূমিকায় ছিল।

ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন কৌশলগত চিন্তা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইরানের সঙ্গে সহাবস্থান ও সমঝোতার পথ খোঁজার প্রবণতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের উদ্বেগ

নতুন সমঝোতা ইসরায়েলের জন্যও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। কারণ চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মতো দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এ কারণে যুদ্ধ থামলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হতে লাগবে কয়েক সপ্তাহ' | The Daily Adin

হরমুজ প্রণালি এখনও ঝুঁকির কেন্দ্র

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—হরমুজ প্রণালি এখনও বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের অন্যতম সংবেদনশীল কেন্দ্র। ভবিষ্যতে যে কোনো উত্তেজনা আবারও বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

যুদ্ধ আপাতত থামার পথে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত প্রতিযোগিতা শেষ হয়নি। বরং নতুন বাস্তবতায় ইরান, উপসাগরীয় দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—সব পক্ষকেই নিজেদের অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অসলোর শিশু শিল্প জাদুঘর বন্ধের শঙ্কা, হারিয়ে যেতে পারে এক লাখের বেশি শিশুশিল্পের ভান্ডার

ইরান টিকে থাকল, বদলে যাচ্ছে উপসাগরীয় শক্তির সমীকরণ

১১:৪০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। এতে আপাতত যুদ্ধবিরতির আশা দেখা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং যুদ্ধ শেষে ইরান রাজনৈতিকভাবে আরও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে দাঁড়িয়েছে, আর উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আস্থা কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় বার্তা হলো—তীব্র সামরিক চাপ ও ধারাবাহিক হামলার মুখেও ইরানকে পরাজিত করা যায়নি। দেশটি এখনও আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও তার প্রভাব বজায় রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পথে নতুন সমঝোতা

শুক্রবার স্বাক্ষর হওয়ার কথা থাকা সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা করবে। আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং সংশ্লিষ্ট বিরোধগুলো।

Gulf recalibrates as Iran emerges intact from war | Shareable Stories |  channel3000.com

চুক্তিটি যুদ্ধের বর্তমান অধ্যায়ের ইতি টানতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংকট বা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমাধান করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

ওয়াশিংটনের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ

এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। সামরিক অভিযান পরিচালনা করেও ওয়াশিংটন তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেনি। ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই চুক্তি এক অর্থে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করেছে।

ইরানের জন্য ‘বেঁচে থাকার জয়’

অন্যদিকে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হলো রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা। ব্যাপক হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির মুখেও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং আলোচনার টেবিলে বসার মতো প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থানও তারা ধরে রাখতে পেরেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর ইরান দুর্বল হলেও পরাজিত হয়নি। এ কারণেই দেশটি এখন নিজেকে আঞ্চলিক বাস্তবতার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে তুলে ধরতে পারছে।

The Gulf that emerges from the Iran war will be very different - Atlantic  Council

উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন ভাবনা

যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে তাদের। এই দেশগুলো মনে করছে, তাদের নিরাপত্তা ঘিরে নেওয়া বড় সিদ্ধান্তগুলোতে তারা কার্যত দর্শকের ভূমিকায় ছিল।

ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন কৌশলগত চিন্তা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইরানের সঙ্গে সহাবস্থান ও সমঝোতার পথ খোঁজার প্রবণতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের উদ্বেগ

নতুন সমঝোতা ইসরায়েলের জন্যও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। কারণ চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মতো দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এ কারণে যুদ্ধ থামলেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হতে লাগবে কয়েক সপ্তাহ' | The Daily Adin

হরমুজ প্রণালি এখনও ঝুঁকির কেন্দ্র

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—হরমুজ প্রণালি এখনও বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের অন্যতম সংবেদনশীল কেন্দ্র। ভবিষ্যতে যে কোনো উত্তেজনা আবারও বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

যুদ্ধ আপাতত থামার পথে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত প্রতিযোগিতা শেষ হয়নি। বরং নতুন বাস্তবতায় ইরান, উপসাগরীয় দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—সব পক্ষকেই নিজেদের অবস্থান নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।