০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা

ভারতে ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম ধাপ শুরু হলেও মাঠপর্যায়ের গণনাকারীরা নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। তীব্র গরম, দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং তথ্য সংগ্রহে প্রশাসনিক চাপ—সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় তথ্যভিত্তিক জরিপ কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত এই জনগণনা ভারতের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা। এতে প্রথমবারের মতো জাতিগত তথ্য সংগ্রহ এবং স্ব-তথ্য প্রদানের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধার পাশাপাশি নতুন ধরনের সমস্যাও তৈরি হয়েছে।

উত্তপ্ত আবহাওয়ায় ঘরে ঘরে তথ্য সংগ্রহ

দিল্লিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গণনাকারীদের প্রতিদিন ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দিনের বেলায় বাসিন্দাদের পাওয়া যায় না। ফলে সকাল খুব ভোরে কিংবা সন্ধ্যায় বারবার একই বাড়িতে যেতে হচ্ছে।

বিশেষ করে নারী গণনাকারীদের অনেকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করতে হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে বাড়িগুলোর দূরত্ব বেশি হওয়ায় এবং অনেক মানুষের জনগণনা সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকায় কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

জনগণনার কাজে নিয়োজিত কয়েকজন নারী কর্মী হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। কোথাও কোথাও বহুতল ভবনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু বাসিন্দা অসহযোগিতাও করেছেন।

গণনাকারীরা বলছেন, বস্তি এলাকায় শুরুতে সন্দেহ থাকলেও পরে অনেক মানুষ সহযোগিতা করেছেন। তবে উচ্চবিত্ত আবাসিক এলাকায় তথ্য সংগ্রহ অনেক সময় বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তি ও সংযোগ সংকট

জনগণনা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপের ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভরশীল। কিন্তু অনেক গণনাকারী অভিযোগ করেছেন, অ্যাপটি প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায় বা ধীরগতিতে কাজ করে।

গ্রামাঞ্চলে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে অনেককে কাগজে তথ্য লিখে পরে বাড়ি ফিরে অ্যাপে আপলোড করতে হচ্ছে। এতে তথ্য হারানো বা ভুল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

তথ্য সংশোধনের অভিযোগ

কিছু গণনাকারী দাবি করেছেন, মাঠে সংগ্রহ করা তথ্য পরে পরিবর্তনের জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশেষ করে শৌচাগার, পানীয় জল এবং রান্নার জ্বালানির মতো বিষয়ে বাস্তব চিত্রের পরিবর্তে ভিন্ন তথ্য দেওয়ার নির্দেশ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তাদের মতে, অনেক পরিবার বাস্তবে কাঠ বা গোবরের জ্বালানি ব্যবহার করলেও নথিতে এলপিজি ব্যবহারের তথ্য দেখানোর চাপ এসেছে। একইভাবে পানীয় জলের উৎস সম্পর্কেও তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ জনগণনার তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিরাট কর্মযজ্ঞ

ভারতের প্রায় ১৪০ কোটির বেশি মানুষের তথ্য সংগ্রহে লাখো শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী যুক্ত রয়েছেন। প্রথম ধাপে আবাসন, মৌলিক সুবিধা, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই ধাপের তথ্যের ভিত্তিতেই ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ধাপে বিস্তারিত জনসংখ্যা গণনা ও অন্যান্য সামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ফলে বর্তমান পর্যায়ের তথ্যের সঠিকতা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতের এই বিশাল জনগণনা কার্যক্রম প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা করলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা দেখাচ্ছে, সফলতা নিশ্চিত করতে মানবিক, প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

জনগণনায় তাপদাহ, নিরাপত্তা সংকট ও প্রযুক্তিগত সমস্যায় ভারতের মাঠপর্যায়ের গণনাকারীরা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা

০৯:১৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ভারতে ২০২৭ সালের জনগণনার প্রথম ধাপ শুরু হলেও মাঠপর্যায়ের গণনাকারীরা নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। তীব্র গরম, দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং তথ্য সংগ্রহে প্রশাসনিক চাপ—সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় তথ্যভিত্তিক জরিপ কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত এই জনগণনা ভারতের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল জনগণনা। এতে প্রথমবারের মতো জাতিগত তথ্য সংগ্রহ এবং স্ব-তথ্য প্রদানের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধার পাশাপাশি নতুন ধরনের সমস্যাও তৈরি হয়েছে।

উত্তপ্ত আবহাওয়ায় ঘরে ঘরে তথ্য সংগ্রহ

দিল্লিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গণনাকারীদের প্রতিদিন ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দিনের বেলায় বাসিন্দাদের পাওয়া যায় না। ফলে সকাল খুব ভোরে কিংবা সন্ধ্যায় বারবার একই বাড়িতে যেতে হচ্ছে।

বিশেষ করে নারী গণনাকারীদের অনেকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে কাজ করতে হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে বাড়িগুলোর দূরত্ব বেশি হওয়ায় এবং অনেক মানুষের জনগণনা সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকায় কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

জনগণনার কাজে নিয়োজিত কয়েকজন নারী কর্মী হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। কোথাও কোথাও বহুতল ভবনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু বাসিন্দা অসহযোগিতাও করেছেন।

গণনাকারীরা বলছেন, বস্তি এলাকায় শুরুতে সন্দেহ থাকলেও পরে অনেক মানুষ সহযোগিতা করেছেন। তবে উচ্চবিত্ত আবাসিক এলাকায় তথ্য সংগ্রহ অনেক সময় বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তি ও সংযোগ সংকট

জনগণনা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপের ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভরশীল। কিন্তু অনেক গণনাকারী অভিযোগ করেছেন, অ্যাপটি প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায় বা ধীরগতিতে কাজ করে।

গ্রামাঞ্চলে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে অনেককে কাগজে তথ্য লিখে পরে বাড়ি ফিরে অ্যাপে আপলোড করতে হচ্ছে। এতে তথ্য হারানো বা ভুল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

তথ্য সংশোধনের অভিযোগ

কিছু গণনাকারী দাবি করেছেন, মাঠে সংগ্রহ করা তথ্য পরে পরিবর্তনের জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশেষ করে শৌচাগার, পানীয় জল এবং রান্নার জ্বালানির মতো বিষয়ে বাস্তব চিত্রের পরিবর্তে ভিন্ন তথ্য দেওয়ার নির্দেশ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তাদের মতে, অনেক পরিবার বাস্তবে কাঠ বা গোবরের জ্বালানি ব্যবহার করলেও নথিতে এলপিজি ব্যবহারের তথ্য দেখানোর চাপ এসেছে। একইভাবে পানীয় জলের উৎস সম্পর্কেও তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ জনগণনার তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিরাট কর্মযজ্ঞ

ভারতের প্রায় ১৪০ কোটির বেশি মানুষের তথ্য সংগ্রহে লাখো শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী যুক্ত রয়েছেন। প্রথম ধাপে আবাসন, মৌলিক সুবিধা, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই ধাপের তথ্যের ভিত্তিতেই ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ধাপে বিস্তারিত জনসংখ্যা গণনা ও অন্যান্য সামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ফলে বর্তমান পর্যায়ের তথ্যের সঠিকতা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণ ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতের এই বিশাল জনগণনা কার্যক্রম প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা করলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা দেখাচ্ছে, সফলতা নিশ্চিত করতে মানবিক, প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

জনগণনায় তাপদাহ, নিরাপত্তা সংকট ও প্রযুক্তিগত সমস্যায় ভারতের মাঠপর্যায়ের গণনাকারীরা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।