বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রবার্তো “পিকো” লোপেস। কিন্তু কয়েক বছর আগেও তাঁর জীবন ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি হয়তো আয়ারল্যান্ডে বন্ধক ঋণ পরামর্শক হিসেবেই কাজ করতেন, যদি না একটি সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁর ভাগ্য বদলে দিত।
৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে অসাধারণ রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনায় আসেন। সেই ম্যাচে তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি শুধু কেপ ভার্দের নয়, বিশ্ব ফুটবলপ্রেমীদেরও নজর কেড়েছে।
শখ থেকে পেশাদার ফুটবলে
একসময় ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের একটি ক্লাবের হয়ে খেলতেন লোপেস। ২০১৭ সালে আরও বড় সুযোগ এলে তিনি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ফুটবলকে বেছে নেন। সেই সিদ্ধান্ত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু আজ তা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ অভিষেকের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি বেড়েছে লোপেসের। টেলিভিশন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আলোচনায় এখন তাঁর নাম উঠে আসছে নিয়মিত।
একটি বার্তা বদলে দিল ভবিষ্যৎ
লোপেসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটাও ছিল বেশ অদ্ভুত। ২০১৮ সালে কেপ ভার্দের জাতীয় দলের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি প্রথমে বার্তাটিকে গুরুত্ব দেননি। এমনকি তিনি ভেবেছিলেন এটি হয়তো মজা করার জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রায় নয় মাস পরে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তাটি অনুবাদ করে পড়েন এবং সুযোগটি গ্রহণ করেন। পরে তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা ছিল।
স্বপ্ন থেকে বাস্তবতা
২০১৯ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর লোপেস দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন। তিনি দুটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে খেলেছেন এবং ২০২৩ আসরে দলকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সাহায্য করেছেন।

এবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তাঁর দীর্ঘ যাত্রার সর্বোচ্চ অর্জন। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁর পরিবারের একাধিক প্রজন্ম অনুসরণ করেছে। কেপ ভার্দেতে থাকা তাঁর ৯৮ বছর বয়সী দাদাও সেই ম্যাচ দেখেছেন। মাঠে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা-মা, দুই ভাই, স্ত্রী ও ছোট ছেলেও।
শিক্ষার গুরুত্ব ভুলে যাননি
বিশ্বকাপের আলোয় উঠে এলেও শিক্ষা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি। লোপেস মনে করেন, পড়াশোনা তাঁকে শুধু বিকল্প ক্যারিয়ারের সুযোগই দেয়নি, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করেছে।
তাঁর ভাষায়, শিক্ষা এবং খেলাধুলা একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ফুটবলে সাফল্য এলেও শিক্ষার মূল্য কখনও কমে না। সেই বিশ্বাসই তাঁকে আজও অনুপ্রাণিত করে।
১৩ বছর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে কেপ ভার্দের খেলা দেখে তিনি কল্পনা করেছিলেন, একদিন হয়তো তিনিও দেশের জার্সিতে খেলবেন। অনেকের কাছে সেটি ছিল কেবল স্বপ্ন, কিন্তু লোপেসের জন্য তা আজ বাস্তবতা।
সংক্ষিপ্ত দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের এই ডিফেন্ডার এখন প্রমাণ করেছেন, শিক্ষা, ধৈর্য এবং সাহস থাকলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















