বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল মানেই সুন্দর ফুটবল, অসাধারণ দক্ষতা আর দর্শকদের মন জয় করা পারফরম্যান্স। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে দলটির বর্তমান যাত্রা যেন ভিন্ন এক গল্প বলছে। মাঠের জৌলুস আগের মতো না থাকলেও জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস হারায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর সেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে এক কাল্পনিক চরিত্র—রকি বালবোয়া।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বিখ্যাত ‘রকি স্টেপস’-এ ভিড় করেন শত শত ব্রাজিল সমর্থক। চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি চরিত্র রকির স্মৃতিবিজড়িত সেই সিঁড়িতে উঠে ছবি তোলেন তারা। অনেকের গায়ে ছিল হলুদ রঙের রকি পোশাকও। সমর্থকদের বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং অদম্য মানসিকতার প্রতীক রকির গল্প বর্তমান ব্রাজিল দলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
হাইতির বিপক্ষে স্বস্তির জয়
মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় দলটি।

ম্যাথিউস কুনহা জোড়া গোল করেন, আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করে দলের ব্যবধান আরও বাড়ান। বিরতির আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখার আশা করলেও সমর্থকদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দলটি বাড়তি গোলের চেয়ে শক্তি সঞ্চয়ে বেশি মনোযোগী ছিল।
স্মৃতিতে পুরনো ব্রাজিল
স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সমর্থকদের পোশাকে বর্তমান তারকাদের চেয়ে বেশি দেখা গেছে অতীতের কিংবদন্তিদের নাম। রোনালদো, রোনালদিনহো, পেলে, কাকা কিংবা রোমারিও—পুরনো দিনের সেই তারকারাই যেন এখনও সমর্থকদের হৃদয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল।
এ দৃশ্য বর্তমান ব্রাজিল দলের অবস্থানও তুলে ধরে। অধিনায়ক মারকিনিওসের নেতৃত্বে দলটি কার্যকর ফুটবল খেললেও এখনও দেশবাসীকে পুরোপুরি মুগ্ধ করতে পারেনি। একসময় ব্রাজিলের পরিচয় ছিল ‘জোগা বনিতো’ বা সুন্দর ফুটবলের জন্য। কিন্তু এবারের দলটিকে অনেক বেশি বাস্তববাদী বলেই মনে হচ্ছে।
সমর্থকদের আস্থা এখনও অটুট
মাঠের খেলায় আগের সেই ঝলক না থাকলেও সমর্থকদের বিশ্বাস কমেনি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে সাম্বার তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন তারা। ড্রাম, গান আর নাচে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
বহু সমর্থকের মতে, ব্রাজিল হয়তো আগের মতো শৈল্পিক ফুটবল খেলছে না, কিন্তু দলটি জিততে পারলেই মানুষ সন্তুষ্ট থাকবে। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে দলটি ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেও তাদের আশা।
বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরও প্রমাণ দিতে হবে
গ্রুপের শীর্ষে থাকায় নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল ব্রাজিলের। তবে শিরোপা জিততে হলে তাদের আরও বিশ্বাসযোগ্য পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। ফ্রান্স, ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমান ছন্দ যথেষ্ট হবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তবু ব্রাজিল শিবিরে আশাবাদের ঘাটতি নেই। কারণ তারা বিশ্বাস করে, রকির মতোই বারবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই বড় সাফল্যের চাবিকাঠি। প্রতিভার পাশাপাশি ধারাবাহিকতা, পরিশ্রম এবং লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
সম্ভবত সেই কারণেই বিশ্বকাপের এই যাত্রায় ব্রাজিল শুধু ফুটবল নয়, রকির অদম্য চেতনাকেও সঙ্গী করে এগিয়ে যেতে চাইছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















