উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে একটি ‘অন্ধকার অধ্যায়’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ এক কর্মকর্তা। দলটির ভ্রমণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা তাদের পারফরম্যান্সকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়াত মোমবেনি দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন। এর আগে ফেডারেশন জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবে।
ভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক

ইরানের পরবর্তী ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ম্যাচটি স্থানীয় সময় দুপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ কারণে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুবিধার্থে ম্যাচের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিল ইরান।
তবে ফেডারেশনের দাবি, তাদের সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম নির্ধারিত ম্যাচের দুই দিন আগেই ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে। এ ঘটনাকে ইরান বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত শুধু একটি দলের প্রস্তুতিকে ব্যাহত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের ন্যায্যতা ও সমতার প্রশ্নও তুলছে।
নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ
মোমবেনি বলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে চুক্তি ও নিয়মের যথাযথ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, স্বাগতিকদের আচরণ ফুটবলের মূল মূল্যবোধকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই ঘটনা একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। খেলাধুলার ক্ষেত্রে সব দেশের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হওয়া জরুরি, আর সেটি ব্যাহত হলে প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্বাগতিকদের সমালোচনা
ইরানি ফুটবল কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপের নিয়মাবলি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, যাঁরা আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন, তাঁদের এমন বড় আসরের আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।
তিনি মনে করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আরও সমন্বয় করা হলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সম্ভব ছিল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
এবারের বিশ্বকাপ একটি বিশেষ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিহাসে এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে একটি স্বাগতিক দেশকে নিজেদের মাটিতে এমন একটি দেশের জাতীয় দলকে আতিথ্য দিতে হচ্ছে, যার সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত ও যুদ্ধের সম্পর্ক ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও খেলাধুলাকে নিরপেক্ষ রাখার চ্যালেঞ্জ এবার নতুন করে সামনে এসেছে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই ইরানের অভিযোগ বিশ্বকাপজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















