ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আবারও সরব হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এর আগে দেশের ছয়টি শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের পর তিনি আবার দিল্লিতে ফিরে এই প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেন। বিকেলের দিকে যন্তর মন্তরে বিপুল সংখ্যক সমর্থকের সমাগম ঘটে। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পর পুলিশ বারবার মাইকিং করে বিক্ষোভকারীদের স্থান ত্যাগের আহ্বান জানায়।
সময়সীমা পেরিয়েও অবস্থান
বিকেল ৫টার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও কয়েকশ আন্দোলনকারী সেখানে অবস্থান চালিয়ে যান। তাদের ঘিরেই মঞ্চে অবস্থান করেন অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল, তাকে আটক করা হতে পারে।
সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে দিপকে ঘোষণা দেন যে আন্দোলন শেষ হয়নি। তিনি পুলিশের কাছে কর্মসূচির সময় বাড়ানোর আবেদনও জানান। তবে কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দিলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কিছুটা কমিয়ে আনে।
খাদ্য ও পানির প্রবেশ নিয়ে অভিযোগ
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভস্থলে খাদ্য ও পানীয় জল প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। দিপকে এটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আন্দোলনকারীরা অনশনেও যেতে প্রস্তুত।
সন্ধ্যার পর বিক্ষোভস্থলের আলোকসজ্জা বন্ধ হয়ে গেলে অংশগ্রহণকারীরা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করতে বাধ্য হন। পরে আলো পুনরায় চালু করার দাবি জানানো হয়। কিছু সময় পর কর্তৃপক্ষ আলো ফিরিয়ে দেয় এবং পানি প্রবেশের অনুমতিও দেয়।

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন
বিক্ষোভ চলাকালে দিপকে প্রশ্ন তোলেন, কেন এখনও ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রিসভায় বহাল রয়েছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময়সীমা শেষ হওয়ার বিষয়ে যেমন সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে, তেমনি মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত।
তার বক্তব্যে বারবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠে আসে। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি জানান, এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
ছয় শহরে বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা
দিল্লির এই কর্মসূচির আগে পুনে, লখনউ, অমৃতসর, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও জয়পুরে একই দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবারের কর্মসূচিতেও সমর্থকদের ধাতব বাসনপত্র নিয়ে এসে শব্দ করে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া এই আন্দোলন এখন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে সবার।
সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবির আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে দ্বিতীয় দফার এই বিক্ষোভ ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে যন্তর মন্তরে দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভ। সময়সীমা পেরিয়েও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপি নেতার।
Sarakhon Report 



















