১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
চাঁদপুর-ঢাকা সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ, ভেঙে পড়ল খিরাই নদীর বেইলি সেতু কিশোর কুমারের ঐতিহাসিক গৌরী কুঞ্জে বিরাট কোহলির রেস্তোরাঁ, বদলে গেল কিংবদন্তির ঠিকানা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে ফিলিপাইনের ধানচাষিরা যুদ্ধের নতুন যুগ: প্রযুক্তি, শক্তির রাজনীতি এবং দীর্ঘ সংঘাতের বিশ্ব আকাশেই উড়ন্ত গবেষণাগার! নতুন প্রজন্মের বিশাল বিমান ইঞ্জিন পরীক্ষা চলছে বিশেষ বোয়িং উড়োজাহাজে পুলিশ-আদালতের একের পর এক ব্যর্থতায় সিরিয়াল যৌন অপরাধীর হাতে প্রাণ গেল দুই নারীর নিরাপত্তা পেলে দেশে ফিরতে প্রস্তুত সাকিব, মুখোমুখি হবেন বিচার প্রক্রিয়ার ইউরোপে নতুন জলবোমারু বিমান তৈরির দৌড়, দাবানল মোকাবিলায় বড় প্রস্তুতি হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বাণিজ্য জগতে বড় ধাক্কা, বিপাকে হাজারো ছোট ব্যবসা

জ্বালানি নিরাপত্তায় বিদ্যুতায়নের গতি বাড়ানোর আহ্বান, একসঙ্গে শতাধিক বৈশ্বিক কোম্পানি

জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থির মূল্য ও সরবরাহ ঝুঁকি থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে বিদ্যুতায়নকে জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি। বিভিন্ন শিল্পখাতের ১১২টি প্রতিষ্ঠান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, দ্রুত বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ব্যবসার ব্যয় কমানো সম্ভব।

বিবৃতিতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বার্ষিক আয় প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তারা মনে করে, জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে বারবার মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা দেয়, সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে এবং নতুন বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

বিদ্যুতায়ন কেন জরুরি

কোম্পানিগুলো বলছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠছে।

Current Energy Crisis: Market Impact & Policy Response

 

বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাগুলো দেখিয়েছে যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতনির্ভর পরিবহন, শিল্প ও ভবন ব্যবস্থার বিস্তারকে ভবিষ্যতের নিরাপদ পথ হিসেবে দেখছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো।

সরকারি নীতিতে স্পষ্টতা চায় ব্যবসা খাত

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুতায়নের গতি বাড়াতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বাজারের কাঠামোগত সংস্কার, সঞ্চালন অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়িক নেতাদের মতে, স্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনা ছাড়া বড় পরিসরে বিদ্যুতায়ন সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং প্রযুক্তি বিস্তারে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

Survey: Businesses back faster shift to electrification

প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই প্রস্তুত

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবহন, ভবন এবং শিল্প খাতকে বিদ্যুতায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্রযুক্তিই ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য। এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদাও কমবে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

ব্যবসায়িক মহলের ধারণা, সঠিক নীতি সহায়তা থাকলে আগামী দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিদ্যুতায়নের ব্যাপক বিস্তার ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসা নেতা আশা করছেন আগামী ১০ বছরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বিদ্যুতনির্ভর হয়ে উঠবে।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু ও জ্বালানি নীতির নতুন আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান বিদ্যুতায়নকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার বার্তা দিচ্ছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন—তিন ক্ষেত্রেই বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুর-ঢাকা সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ, ভেঙে পড়ল খিরাই নদীর বেইলি সেতু

জ্বালানি নিরাপত্তায় বিদ্যুতায়নের গতি বাড়ানোর আহ্বান, একসঙ্গে শতাধিক বৈশ্বিক কোম্পানি

১১:০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থির মূল্য ও সরবরাহ ঝুঁকি থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে বিদ্যুতায়নকে জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের শতাধিক শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি। বিভিন্ন শিল্পখাতের ১১২টি প্রতিষ্ঠান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, দ্রুত বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ব্যবসার ব্যয় কমানো সম্ভব।

বিবৃতিতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বার্ষিক আয় প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তারা মনে করে, জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে বারবার মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা দেয়, সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে এবং নতুন বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

বিদ্যুতায়ন কেন জরুরি

কোম্পানিগুলো বলছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠছে।

Current Energy Crisis: Market Impact & Policy Response

 

বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাগুলো দেখিয়েছে যে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতনির্ভর পরিবহন, শিল্প ও ভবন ব্যবস্থার বিস্তারকে ভবিষ্যতের নিরাপদ পথ হিসেবে দেখছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো।

সরকারি নীতিতে স্পষ্টতা চায় ব্যবসা খাত

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুতায়নের গতি বাড়াতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বাজারের কাঠামোগত সংস্কার, সঞ্চালন অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়িক নেতাদের মতে, স্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনা ছাড়া বড় পরিসরে বিদ্যুতায়ন সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং প্রযুক্তি বিস্তারে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

Survey: Businesses back faster shift to electrification

প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই প্রস্তুত

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবহন, ভবন এবং শিল্প খাতকে বিদ্যুতায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্রযুক্তিই ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য। এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদাও কমবে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

ব্যবসায়িক মহলের ধারণা, সঠিক নীতি সহায়তা থাকলে আগামী দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিদ্যুতায়নের ব্যাপক বিস্তার ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসা নেতা আশা করছেন আগামী ১০ বছরের মধ্যে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বিদ্যুতনির্ভর হয়ে উঠবে।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু ও জ্বালানি নীতির নতুন আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই আহ্বান বিদ্যুতায়নকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার বার্তা দিচ্ছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়ন—তিন ক্ষেত্রেই বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে।