মুম্বাইয়ের জুহুর সমুদ্রঘেঁষা অভিজাত এলাকায় কিশোর কুমারের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাংলো গৌরী কুঞ্জ পেয়েছে নতুন পরিচয়। একসময় কিংবদন্তি গায়ক ও অভিনেতা কিশোর কুমারের ব্যক্তিগত আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই সম্পত্তির একটি অংশ এখন ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলির ওয়ান৮ কমিউন রেস্তোরাঁর ঠিকানা।
কিশোরের স্মৃতিতে গৌরী কুঞ্জ
গৌরী কুঞ্জ নামটি কিশোর কুমারের কাছে ছিল বিশেষ অর্থবহ। তাঁর মা গৌরী দেবীর নামে নামকরণ করা এই বাংলো শুধু থাকার জায়গা ছিল না; বরং কর্মব্যস্ত চলচ্চিত্রজীবনের বাইরে নিজের মতো করে সময় কাটানোর একটি নিরিবিলি আশ্রয় ছিল এটি।
বাড়িটিতে সবুজে ঘেরা বাগান, খোলা জায়গা ও উঠান ছিল। সেখানে কিশোর কুমার গান ও সুর নিয়ে কাজ করতেন, বন্ধু ও চলচ্চিত্রজগতের সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। বিপুল জনপ্রিয়তার মধ্যেও ব্যক্তিগত পরিসর ও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার প্রতি তাঁর যে প্রবল টান ছিল, গৌরী কুঞ্জের পরিবেশে তারই প্রতিফলন দেখা যেত।

নিরিবিলি জীবনের প্রতিচ্ছবি
কিশোর কুমারের ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে, বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গড়ে ওঠা বাংলোটির নকশায় জাঁকজমকের চেয়ে স্বস্তি ও ব্যক্তিগত পরিসরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রাকৃতিক আলো, খোলা জায়গা এবং বাগানঘেরা পরিবেশ বাড়িটিকে একটি শান্ত আবাসে পরিণত করেছিল।
কিশোরের বিচিত্র ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও গৌরী কুঞ্জের নানা গল্প জড়িয়ে আছে। ১৯৮৫ সালের একটি বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারে তিনি reportedly বলেছিলেন, তাঁর বাগানের গাছগুলোই তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের মতো। এমনকি কয়েকটি গাছের নামও দিয়েছিলেন তিনি।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ব্যাপারেও ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। বাংলোর প্রবেশপথে থাকা একটি সাইনবোর্ডে ‘কিশোর থেকে সাবধান’ ধরনের সতর্কবার্তা থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সংগীতের মানুষদের মিলনস্থল
গৌরী কুঞ্জ ছিল কিশোর কুমারের সংগীতচর্চারও গুরুত্বপূর্ণ পরিসর। চলচ্চিত্রজগতের বন্ধু, সুরকার এবং সহযোগীরা সেখানে আসতেন। বাড়ির প্রশস্ত বাগান ও অনানুষ্ঠানিক পরিবেশ তাঁদের জন্য এমন এক জায়গা তৈরি করেছিল, যেখানে তারকা জীবনের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে সহজভাবে সময় কাটানো সম্ভব হতো।

কিশোরের স্মৃতি থেকে বিরাটের রেস্তোরাঁ
২০২২ সালে গৌরী কুঞ্জের একটি অংশ বিরাট কোহলির ওয়ান৮ কমিউন রেস্তোরাঁর জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কিংবদন্তি শিল্পীর স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনায় যুক্ত হয় আধুনিক রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি।
রেস্তোরাঁটির নকশায় বাংলোটির পুরোনো চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক আলো, সবুজের উপস্থিতি ও খোলা জায়গার পাশাপাশি কাঠের উষ্ণ আবহ, পিতলের উপকরণ, বড় কাচের প্যানেল এবং ঘরের ভেতরের গাছপালা ব্যবহার করা হয়েছে। দেয়ালজুড়ে উল্লম্ব সবুজায়নও রয়েছে।
ফলে গৌরী কুঞ্জের একটি অংশ নতুন বাণিজ্যিক পরিচয় পেলেও সম্পত্তিটির অতীত পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কিশোর কুমারের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত এই জায়গা এখন একই সঙ্গে বহন করছে পুরোনো বলিউডের আবহ এবং আধুনিক রেস্তোরাঁর নতুন অধ্যায়। দর্শনার্থীদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে এমন এক স্থান, যেখানে ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক কিংবদন্তির স্মৃতির সঙ্গে সময়ের পরিবর্তনের ছাপও পাশাপাশি দেখা যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















