কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ও ব্যবসায়ী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। তাঁর এই বিজয়ের মাধ্যমে দেশটির রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হলো। নির্বাচনী প্রচারে কঠোর নিরাপত্তানীতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং রাষ্ট্রের আকার ছোট করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেন।
সমর্থকদের কাছে ‘টাইগার’ নামে পরিচিত ৪৭ বছর বয়সী এই নেতা নিজেকে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে একজন পরিবর্তনের দূত হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, নিরাপত্তা সংকট এবং মাদক পাচারের বিস্তার থেকে দেশকে বের করে আনাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচনে কঠিন লড়াই
চলতি বছরের শুরু থেকেই কঠোর অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা জোরদারের বক্তব্যের কারণে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন দে লা এসপ্রিয়েলা। প্রথম দফার ভোটে তিনি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পান। পরে দ্বিতীয় দফার ভোটে বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদাকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

নির্বাচনী প্রচারে তিনি বিদায়ী সরকারের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো, করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনার পরিবর্তে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বড় পরিকল্পনা
নতুন প্রেসিডেন্ট দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বাজারবান্ধব নীতি গ্রহণের কথা বলেছেন। তিনি তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম পুনরায় শুরু এবং নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
দে লা এসপ্রিয়েলা দাবি করেন, তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলন বাইরের কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সহায়তা ছাড়াই গড়ে উঠেছে। তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয়ও নিজেই বহন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
আইনজীবী থেকে ব্যবসায়ী
আইন পেশার পাশাপাশি দে লা এসপ্রিয়েলার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও বিস্তৃত। পোশাক, ওয়াইন, রাম এবং আবাসন খাতে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে। যদিও তাঁর কিছু ব্যবসা আর্থিক চাপে পড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে, তবে তাঁর আইন প্রতিষ্ঠান এখনো লাভজনক হিসেবে পরিচিত।

বিতর্ক ও জনপ্রিয়তা
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি প্রায়ই সামরিক কায়দায় শুভেচ্ছা জানাতেন, যদিও তিনি কখনো সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেননি। বিলাসবহুল ঘড়ি, দামী সানগ্লাস এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি আলোচনায় থাকেন।
অনেকে তাঁর নেতৃত্বের ধরনকে মধ্য আমেরিকার কিছু কঠোর নিরাপত্তানীতির সঙ্গে তুলনা করলেও তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। কলম্বিয়ায় অপরাধ দমনে তিনি একাধিক বৃহৎ কারাগার নির্মাণের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবন
চার সন্তানের জনক দে লা এসপ্রিয়েলা দেশটির ক্যারিবীয় অঞ্চলের মনতেরিয়া শহরে বেড়ে উঠেছেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত পরিবেশনেও পরিচিত মুখ। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কলম্বিয়ার নাগরিকত্বধারী এই নেতা আগামী ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তাঁর সমর্থকদের আশা, তিনি অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে দ্রুত পরিবর্তন আনবেন। তবে সমালোচকদের মতে, তাঁর কঠোর নীতিগুলো বাস্তবায়নের পথে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















