দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পর বলিভিয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হলেও এখন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সংকট প্রশমনের এই সময়ে একটি সামরিক সহায়তা বিমানের দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু নতুন করে শোকের ছায়া ফেলেছে।
জরুরি অবস্থা অনুমোদন
সরকারের ঘোষিত জরুরি অবস্থার পক্ষে দেশটির আইনপ্রণেতারা ব্যাপক সমর্থন দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও বিস্তৃতভাবে মোতায়েন করে অবরোধ সরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়ক ও প্রধান সড়ক অবরোধের ওপর নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর হয়েছে।
সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি সরবরাহ দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অবরোধ প্রত্যাহারে অগ্রগতি

সংকট নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে দেশের কয়েকটি এলাকায়। সান্তা ক্রুজ অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানী অঞ্চলের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনও তাদের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও তারা জানিয়েছে, তাদের দাবি এখনো বহাল রয়েছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সহায়তা, সরকারি কিছু সিদ্ধান্ত বাতিল, শ্রমিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং জ্বালানির মান নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ।
সহায়তা বিমানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
দিনটির সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ আসে একটি সামরিক সহায়তা বিমানের দুর্ঘটনার মাধ্যমে। রাজধানীর কাছের এলাকা থেকে যাত্রা করা বিমানটি পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা চারজন বেসামরিক যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য নিহত হন।

দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অবরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন এমন শিশুদের পরিবহনে এটি ভূমিকা রেখেছিল। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
অর্থনৈতিক চাপ থেকে শুরু সংকট
প্রায় ৫০ দিন ধরে চলা এই সংকটের সূচনা হয়েছিল সরকারের অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে। বাজেট ঘাটতি কমাতে দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্তের পর ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরকার কিছু সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনলেও আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।
বিক্ষোভকারীরা মজুরি বৃদ্ধি, জ্বালানি ও ডলারের সংকট নিরসন এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে যায়। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়ে।
এখন অবরোধ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও দেশের অনেক সড়ক ও অবকাঠামো মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















