০৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
থাইল্যান্ডে বাঁধের জলাধার থেকে উঠল ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন: ৪০ বছরের পর দেখা মিলল যুদ্ধকালীন ধ্বংসাবশেষের কিয়ার স্টারমারের বিদায়: দলীয় বিদ্রোহেই প্রধানমন্ত্রীর পতন, নতুন নেতৃত্বের পথে ব্রিটিশ লেবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সুইজারল্যান্ড আলোচনায় অগ্রগতি: ৬০ দিনের রোডম্যাপ, লেবানন যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রশ্নে নতুন কাঠামো কাতারের রাস লাফানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: বার্জান গ্যাস স্থাপনায় ৫৪ আহত, ১৮ নিখোঁজ ‘ককটেল ২’ ঘিরে রশ্মিকা মন্দান্নার আবেগ: ডিয়া রেড্ডি চরিত্রকে বিদায়, বক্স অফিসে শক্ত শুরু কলম্বিয়ায় ডানপন্থী মোড়: ট্রাম্প-সমর্থিত দে লা এস্প্রিয়েলার অল্প ব্যবধানে জয়, ফল চ্যালেঞ্জে বাম শিবির সামরিক বিরতির আগে সেভেন্টিনের আবেগঘন ‘ক্যারেট ল্যান্ড’: তিন বছরের মধ্যে ১৩ জনের ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলজিৎ দোসাঞ্জের সান ফ্রান্সিসকো কনসার্টে মঞ্চে অনুপ্রবেশ, খালিস্তান পতাকা হাতে বিক্ষোভকারী আটক ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ: ফ্রান্সে স্কুল বন্ধ, ট্রেন বাতিল, প্রকাশ্যে মদপানে বিধিনিষেধ কলম্বিয়ায় ডানপন্থী মোড়: ট্রাম্প-সমর্থিত দে লা এস্প্রিয়েলার অল্প ব্যবধানে জয়, ফল চ্যালেঞ্জে বাম শিবির

থাইল্যান্ডে বাঁধের জলাধার থেকে উঠল ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন: ৪০ বছরের পর দেখা মিলল যুদ্ধকালীন ধ্বংসাবশেষের

থাইল্যান্ডের সাংখ্লাবুরিতে ভাজিরালংকর্ন বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে জলাধার খালি করার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন ৪০ বছরেরও বেশি সময় পরে প্রথমবারের মতো দৃশ্যমান হয়েছে। থাইল্যান্ড-বার্মা রেলওয়ে সেন্টারের গবেষক অ্যান্ড্রু স্নো লন্ডনের ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে সংগ্রহ করা ঐতিহাসিক আকাশচিত্র ব্যবহার করে স্টেশনের বিন্যাস চিহ্নিত করছেন। স্টেশনটি ছিল ৪১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহাসিক রেলপথের একটি প্রধান ডিপো। আগামী আগস্টে বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হলে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হলে স্টেশনটি আবার পানির নিচে চলে যেতে পারে, তাই গবেষকেরা দ্রুত জরিপ চালাচ্ছেন।

ডেথ রেলওয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম নিষ্ঠুর শ্রম-ইতিহাসের প্রতীক। জাপানি দখলদার বাহিনী তৎকালীন সিয়াম ও বার্মাকে — অর্থাৎ আধুনিক থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারকে — রেলপথে যুক্ত করতে এই পথ নির্মাণ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক সরবরাহ সহজ করা। কিন্তু নির্মাণের পেছনে ছিল অসংখ্য মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবন্দি ও এশীয় শ্রমিকের জোরপূর্বক শ্রম, অপুষ্টি, রোগ এবং মৃত্যু।

Historians race to explore resurfaced WWII 'Death Railway' station | The  Independent

ইতিহাসের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্থান

বাঁধ নির্মাণের পর নিথে স্টেশনসহ আশপাশের এলাকার বড় অংশ জলাধারের পানির নিচে চলে যায়। এখন পানি কমে যাওয়ায় গবেষকেরা পুরোনো নথি, মানচিত্র ও ভৌগোলিক চিহ্ন মিলিয়ে স্থাপনাটি শনাক্ত করছেন। তাদের লক্ষ্য শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান নয়; বরং যুদ্ধ, শ্রম ও স্মৃতির ইতিহাসকে নতুনভাবে সংরক্ষণ করা।

কেন এই গল্প আজও গুরুত্বপূর্ণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু আগে, কিন্তু ডেথ রেলওয়ের স্মৃতি এখনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবন্দিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক এশীয় শ্রমিক এই রেলপথ নির্মাণে প্রাণ হারান। অনেকের নাম, পরিচয় বা কবরও সংরক্ষিত হয়নি। তাই নিথে স্টেশনের পুনরাবির্ভাব শুধু পুরোনো কাঠামো দেখা নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের স্মৃতি ফিরে দেখার সুযোগ।

বাংলাদেশি পাঠকের জন্য এই গল্পের গুরুত্ব আরও আছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রম, যুদ্ধ, ঔপনিবেশিকতা এবং সামরিক অবকাঠামোর ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। আজকের অভিবাসী শ্রম, বড় প্রকল্প ও মানবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বুঝতেও এমন অতীত ফিরে দেখা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

থাইল্যান্ডে বাঁধের জলাধার থেকে উঠল ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন: ৪০ বছরের পর দেখা মিলল যুদ্ধকালীন ধ্বংসাবশেষের

থাইল্যান্ডে বাঁধের জলাধার থেকে উঠল ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন: ৪০ বছরের পর দেখা মিলল যুদ্ধকালীন ধ্বংসাবশেষের

০৯:০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

থাইল্যান্ডের সাংখ্লাবুরিতে ভাজিরালংকর্ন বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে জলাধার খালি করার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কুখ্যাত ডেথ রেলওয়ের নিথে স্টেশন ৪০ বছরেরও বেশি সময় পরে প্রথমবারের মতো দৃশ্যমান হয়েছে। থাইল্যান্ড-বার্মা রেলওয়ে সেন্টারের গবেষক অ্যান্ড্রু স্নো লন্ডনের ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে সংগ্রহ করা ঐতিহাসিক আকাশচিত্র ব্যবহার করে স্টেশনের বিন্যাস চিহ্নিত করছেন। স্টেশনটি ছিল ৪১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহাসিক রেলপথের একটি প্রধান ডিপো। আগামী আগস্টে বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হলে এবং বর্ষা মৌসুম শুরু হলে স্টেশনটি আবার পানির নিচে চলে যেতে পারে, তাই গবেষকেরা দ্রুত জরিপ চালাচ্ছেন।

ডেথ রেলওয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম নিষ্ঠুর শ্রম-ইতিহাসের প্রতীক। জাপানি দখলদার বাহিনী তৎকালীন সিয়াম ও বার্মাকে — অর্থাৎ আধুনিক থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারকে — রেলপথে যুক্ত করতে এই পথ নির্মাণ করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক সরবরাহ সহজ করা। কিন্তু নির্মাণের পেছনে ছিল অসংখ্য মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবন্দি ও এশীয় শ্রমিকের জোরপূর্বক শ্রম, অপুষ্টি, রোগ এবং মৃত্যু।

Historians race to explore resurfaced WWII 'Death Railway' station | The  Independent

ইতিহাসের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্থান

বাঁধ নির্মাণের পর নিথে স্টেশনসহ আশপাশের এলাকার বড় অংশ জলাধারের পানির নিচে চলে যায়। এখন পানি কমে যাওয়ায় গবেষকেরা পুরোনো নথি, মানচিত্র ও ভৌগোলিক চিহ্ন মিলিয়ে স্থাপনাটি শনাক্ত করছেন। তাদের লক্ষ্য শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান নয়; বরং যুদ্ধ, শ্রম ও স্মৃতির ইতিহাসকে নতুনভাবে সংরক্ষণ করা।

কেন এই গল্প আজও গুরুত্বপূর্ণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু আগে, কিন্তু ডেথ রেলওয়ের স্মৃতি এখনো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবন্দিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক এশীয় শ্রমিক এই রেলপথ নির্মাণে প্রাণ হারান। অনেকের নাম, পরিচয় বা কবরও সংরক্ষিত হয়নি। তাই নিথে স্টেশনের পুনরাবির্ভাব শুধু পুরোনো কাঠামো দেখা নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের স্মৃতি ফিরে দেখার সুযোগ।

বাংলাদেশি পাঠকের জন্য এই গল্পের গুরুত্ব আরও আছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রম, যুদ্ধ, ঔপনিবেশিকতা এবং সামরিক অবকাঠামোর ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। আজকের অভিবাসী শ্রম, বড় প্রকল্প ও মানবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বুঝতেও এমন অতীত ফিরে দেখা জরুরি।