বিশ্বজুড়ে কে-পপপ্রেমীদের অন্যতম প্রিয় দল ব্ল্যাকপিঙ্ক শনিবার তাদের যাত্রার এক দশক পূর্ণ করতে যাচ্ছে। তবে এত বড় মাইলফলকের ঠিক আগে আনন্দের চেয়ে ভক্তদের মধ্যে হতাশা ও আক্ষেপই বেশি দেখা যাচ্ছে। কারণ, এখন পর্যন্ত চার সদস্যকে একসঙ্গে নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান, নতুন প্রকাশনা বা উদযাপনার ঘোষণা আসেনি।
দশ বছর আগে ‘স্কয়ার ওয়ান’ প্রকাশের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ব্ল্যাকপিঙ্ক। শুরুতেই ‘হুইসেল’ ও ‘বুমবায়াহ’ দারুণ সাড়া ফেলে। এরপর ‘প্লেয়িং উইথ ফায়ার’, ‘হাউ ইউ লাইক দ্যাট’, ‘পিঙ্ক ভেনম’, ‘শাট ডাউন’ এবং ‘জাম্প’-এর মতো জনপ্রিয় গান দিয়ে দলটি বিশ্বের অন্যতম সফল কে-পপ গোষ্ঠীতে পরিণত হয়।
দলগত পথের পাশাপাশি একক সাফল্য
২০২৩ সালের পর থেকে ব্ল্যাকপিঙ্কের চার সদস্য নতুন এক পথ বেছে নেন। দলগত কার্যক্রমের জন্য তাঁরা একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত কাজের জন্য প্রত্যেকে আলাদা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন। এর ফলে সদস্যরা নিজ নিজ একক অ্যালবাম প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সংগীত তালিকায় সাফল্য এবং বড় বড় সংগীত উৎসবে অংশ নিয়ে আলাদাভাবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন।
এই একক সাফল্য ভক্তদের আনন্দ দিলেও দল হিসেবে ব্ল্যাকপিঙ্কের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কমে যায়। তাই দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল, এবার অন্তত চার সদস্যকে একসঙ্গে দেখা যাবে এবং বিশেষ কিছু আয়োজন হবে।

প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বাড়ছে আক্ষেপ
এ পর্যন্ত দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যে উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে জাতীয় জাদুঘরের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি স্মারক পণ্য। তবে ভক্তদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এমন ঐতিহাসিক উপলক্ষ শুধু স্মারক পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
তাঁদের প্রত্যাশা ছিল একটি বিশেষ ভক্ত সমাবেশ, সরাসরি অনুষ্ঠান, অনলাইন সম্প্রচার কিংবা চার সদস্যের একসঙ্গে উপস্থিতিতে কোনো বিশেষ আয়োজন। কিন্তু বর্ষপূর্তির আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও সে ধরনের কোনো নিশ্চিত ঘোষণা না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশার প্রতিক্রিয়া বাড়ছে।
দলগত কার্যক্রমে দীর্ঘ বিরতি
বিশ্বভ্রমণ ও কনসার্ট ছাড়া ব্ল্যাকপিঙ্ককে সাম্প্রতিক সময়ে দলগতভাবে খুব কমই দেখা গেছে। সংগীত অনুষ্ঠান, ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ কিংবা অন্যান্য প্রচারণামূলক কার্যক্রমও ছিল সীমিত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সম্প্রসারিত অ্যালবাম প্রকাশের পরও পূর্ণাঙ্গ দলীয় কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়েনি।
অনেক ভক্তই স্বীকার করেন, চার সদস্যের ব্যস্ত একক সূচির কারণে সবাইকে একত্র করা সহজ নয়। তবু তাঁদের বিশ্বাস ছিল, দশ বছরের মতো বিশেষ উপলক্ষ ব্যতিক্রম হবে।
অন্য দলগুলোর উদযাপনের সঙ্গে তুলনা
কে-পপের আরও কয়েকটি জনপ্রিয় দল দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন অ্যালবাম, নতুন গান, ভক্ত সমাবেশ এবং বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করেছে। সেই তুলনায় ব্ল্যাকপিঙ্কের বর্ষপূর্তি উদযাপন অনেকটাই সীমিত বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।
এ কারণে অনেকেই আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে অন্তত চার সদস্যকে নিয়ে একটি সরাসরি অনলাইন অনুষ্ঠান বা বিশেষ আয়োজনের ঘোষণা আসবে। তবে এখনো পর্যন্ত বর্ষপূর্তির দিন চার সদস্য একসঙ্গে থাকবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।
বিশ্বসংগীতে ব্ল্যাকপিঙ্কের এক দশকের অবদান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণে আরও বড় আয়োজনের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















